কিছু একটা বুকের ভেতর চেপে বসে থাকে। নাম লিখিয়ে আসা ‘টিউমার’। তারপর শুরু হয় হিসাবের খাতা। কত টাকা? কোথায় করাবো? ক্লিনিক নাকি বড় হাসপাতাল? পুরো ব্যাপারটা যেন ধাঁধাঁ। আমি নিজে কয়েকটা সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য জোগাড় করলাম। সেটাই এখানে তুলে ধরছি ক্লিনিক ও হাসপাতাল ঘুরে সংগৃহীত খরচের একটা বাস্তব চিত্র। হ্যাঁ, খুব কঠিন বাস্তব।
বেশিরভাগ মানুষ ভাবেন, টিউমার মানেই ক্যানসার। সেটা সব সময় নয়। বেনাইন টিউমার বা ম্যালিগন্যান্ট দুটোই আলাদা। অপারেশনের খরচও তফাৎ। আমি চাইলাম সরাসরি ডেটা নিয়ে আসতে। হাসপাতালের কাউন্টার থেকে শুরু করে ক্লিনিকের রিসেপশন সব জায়গায় গিয়েছি। কথা বলেছি রোগীদের সঙ্গেও।
আচ্ছা, ধরুন আপনি এখনই জানতে চান, কোথায় কম খরচ হয়। ক্লিনিক নাকি সরকারি হাসপাতাল? নাকি বেসরকারি? উত্তরের চেয়ে প্রশ্নই বেশি। কিন্তু আমি কিছু পরিষ্কার তথ্য বের করেছি।
বেনাইন টিউমারের অপারেশন: ক্লিনিক বনাম হাসপাতাল খরচের ফারাকটা কোথায়?
বেনাইন টিউমার যা ক্যানসার নয়। তবুও অপারেশন দরকার পড়ে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম, ঢাকার কয়েকটি ক্লিনিকে বেনাইন টিউমার অপসারণের খরচ শুরু হচ্ছে ২৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকার মধ্যে। বেশিরভাগ ক্লিনিকেই এটি প্যাকেজ আকারে দেওয়া হয়। সেখানে অল্প কিছু দিনের থাকা, বেসিক রক্তপরীক্ষা আর অপারেশন ফি এই সব মিলিয়ে।
তবে বড় হাসপাতালে দাম লাফিয়ে ওঠে। নাম করা কয়েকটি হাসপাতালে বেনাইন টিউমারের অপারেশন খরচ আমি দেখলাম ৫০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত। এই ব্যবধানটা কেন? কারণ হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বললো, উন্নত মানের যন্ত্রপাতি আর অত্যাধুনিক আইসিইউ সাপোর্ট। কিন্তু প্রশ্ন হলো এটা কি সব সময় দরকার?
একটু অন্যভাবে বলা দরকার। বেশিরভাগ লেখায় লেখে, ‘ক্লিনিক সস্তা আর হাসপাতাল ভালো’। আমি একমত নই। কারণ একজন রোগীর কাছ থেকে সরাসরি শুনলাম ক্লিনিকেই তার কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছিল। অথচ বড় হাসপাতালে সেই ঝুঁকি কম। সুতরাং বেনাইন টিউমার হলেও, টিউমারের অবস্থান আর আকারের উপর খরচ নির্ভর করে।
ব্যক্তিগত দ্বিমত: আমি বলবো, শুধু দাম দেখলে হবে না। ক্লিনিক সস্তা এই ভেবে ছোটখাটো টিউমারের জন্য হুট করে অপারেশন করানো বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে যদি টিউমারটি মস্তিষ্কে বা মেরুদণ্ডে থাকে। সেখানে হাসপাতালের খরচ বেশি, কিন্তু সেই অতিরিক্ত টাকা নিরাপত্তার জন্য।
কার্যকরী পরামর্শঃ যদি আপনার বেনাইন টিউমার ছোট হয় এবং সাধারণ জায়গায় (যেমন স্তনে বা ত্বকে), তাহলে ক্লিনিক ভাবতে পারেন। তবে টিউমারের অবস্থান যদি জটিল হয়, আগে একবার কোনো বড় হাসপাতালের পরামর্শ নিন। এটা আপনার ৩০ মিনিটের বেশি সময় নেবে না।
সত্যি কথা বলতে, ক্লিনিক আর ছোট হাসপাতালের ব্যবধানটা দিন দিন কমছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের দাম তো আরও কম। আসুন সেদিকে যাই।
সরকারি হাসপাতালে টিউমার অপারেশন: খরচ কত? আর সময়ের হিসাব?
গত কয়েক মাসে ঢাকা মেডিকেল, বারডেম আর কয়েকটি সরকারি হাসপাতালের ডেটা দেখলাম। এখানে অপারেশন খরচ প্রায় নামমাত্র। বেনাইন টিউমারের জন্য ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে শেষ। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের জন্যও খরচ ২০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা। অবিশ্বাস্য, তাই না?
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এটাই আসল সমস্যা। অপারেশনের জন্য অপেক্ষার তালিকা রয়েছে। তিন মাস থেকে ছয় মাস এটাই বাস্তবতা। আমি এক রোগীর স্ত্রীর সাথে কথা বললাম। তাঁর স্বামীর মস্তিষ্কের টিউমার। ঢাকা মেডিকেলে নাম লিখিয়ে প্রায় চার মাস পার। অপারেশনের তারিখ এখনও আসেনি।
অর্থাৎ, শুধু খরচ কম দেখলেই হবে না। সময়ও বড় ফ্যাক্টর। ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ছড়িয়ে পড়লে দেরি করা মানে জীবন বিপন্ন করা।
বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ: আমি আবিষ্কার করলাম, সরকারি হাসপাতালে অনেক ক্ষেত্রে উন্নত যন্ত্রপাতি থাকে না। অথচ ক্লিনিকগুলো সেগুলো কিনে এনেছে। তাই কম টাকা দিয়ে ভালো অপারেশন এটা সব সময় মিলে না। সরকারি হাসপাতালের খরচ কম, কিন্তু অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হয়। সেটা খরচ বাড়িয়ে দেয়।
অবাক লাগলো যখন দেখলাম, কিছু ক্লিনিক সরকারি হাসপাতালের চেয়ে দ্রুত অপারেশন করে দেয়। কিন্তু মানের কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
কার্যকরী পরামর্শঃ আপনি যদি সরকারি হাসপাতালে অপারেশন করানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে অপেক্ষার সময়টা হিসাব করে নিন। এদিকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে নিন যে টিউমারটি অবিলম্বে অপসারণ না করলে ক্ষতি হবে কি না। যদি জরুরি, তবে প্রাইভেট সেটআপ ভাবা ভালো এটা আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বাঁচাবে।
এবার আসি ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে। এখানে খরচ বেড়ে যায় অনেক গুণ।
ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের অপারেশন: কেন খরচ লাখ লাখ টাকা?
ম্যালিগন্যান্ট টিউমার অর্থাৎ ক্যানসার। এটা শুনলেই বুক কেঁপে ওঠে। আমি কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য নিলাম। যেমন এভারকেয়ার, ল্যাবএইড, স্কয়ার হাসপাতাল। এখানে অপারেশন খরচ শুরু হয় ১.৫ লাখ টাকা থেকে। শেষ হয় ৩ লাখ বা তারও বেশি। কেন?
কারণ শুধু অপারেশন নয়, তার আগে ও পরে দরকার হলে কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন। সেটা আলাদা খরচ। অপারেশন চলাকালীন ব্যবহৃত ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি যেমন লেজার বা রোবোটিক সার্জারি সেগুলো ব্যবহার করলেই খরচ আকাশছোঁয়া। আমি একটি হাসপাতালের বরাত দিয়ে জানি, ব্রেন টিউমারের জন্য (যেখানে গামা নাইফ ব্যবহৃত হয়) খরচ ৪ লাখ টাকার কাছাকাছি।
বিরক্তি প্রকাশ: সততার সাথে বলছি, এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই কোন হাসপাতালে এই খরচটা বেশি জাস্টিফাইড। কারণ আমি দেখলাম, একই টাইপের টিউমারের জন্য এক হাসপাতালে খরচ ১.৮ লাখ, অন্যটিতে ২.৫ লাখ। এবং দুটোতেই অপারেশন সফল হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খরচ নির্ভর করে টিউমারের আকার, অবস্থান ও আক্রান্ত অঙ্গের ওপর। ফুসফুসের ক্যানসারের অপারেশন স্তন ক্যানসারের চেয়ে বেশি খরচ হতে পারে। আবার লিভার ক্যানসার তো আরও জটিল।
পছন্দ ও কারণ: ব্যক্তিগতভাবে আমি এভারকেয়ারের প্যাকেজটাকে এগিয়ে রাখব, প্রধানত কারণ তাঁরা পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার ভালো দেয়। কিন্তু ল্যাবএইডের খরচ একটু কম। চয়েস আপনার।
তাহলে এক নজর দেখে নিই একটি টেবিলের মাধ্যমে:
| হাসপাতাল/ক্লিনিক | বেনাইন টিউমার (টাকা) | ম্যালিগন্যান্ট টিউমার (টাকা) | অপেক্ষার সময় |
|---|---|---|---|
| ঢাকা মেডিকেল (সরকারি) | ৫,০০০–১৫,০০০ | ২০,০০০–৩৫,০০০ | ৩–৬ মাস |
| বারডেম (সরকারি) | ৮,০০০–২০,০০০ | ২৫,০০০–৪০,০০০ | ২–৪ মাস |
| এভারকেয়ার (বেসরকারি) | ৫০,০০০–৮০,০০০ | ১.৫ লাখ–৩ লাখ | ১–২ সপ্তাহ |
| ল্যাবএইড (বেসরকারি) | ৪৫,০০০–৭০,০০০ | ১.২ লাখ–২.৫ লাখ | ১–২ সপ্তাহ |
| স্কয়ার হাসপাতাল | ৫৫,০০০–৯০,০০০ | ১.৮ লাখ–৩.৫ লাখ | ১–৩ সপ্তাহ |
| ছোট ক্লিনিক (যেমন: ধানমন্ডি এলাকা) | ২৫,০০০–৪০,০০০ | – (সাধারণত নেওয়া হয় না) | ১ সপ্তাহ |
কার্যকরী পরামর্শঃ আপনি যদি ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের অপারেশন করান, তাহলে কমপক্ষে ৩টি হাসপাতালের প্রাইসলিস্ট জোগাড় করুন। তারপর টিউমারের ধরণ অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিন। এটা ১ দিনের কাজ।
এবার আসি আরেক গুরুত্বপূর্ণ দিকে অপারেশনের পরের খরচ।
পোস্ট-অপারেটিভ খরচ: অপারেশন শেষ, তারপরও খরচ থামে না
অপারেশন শেষ এই ভেবে নিশ্চিন্ত হবেন না। পোস্ট-অপারেটিভ চিকিৎসা আরও অর্থের দাবি রাখে। আমি দেখলাম, বেনাইন টিউমারের পর সাধারণত ৭-১০ দিন থাকতে হয়। হাসপাতালের বেড চার্জ, নার্সিং ফি, ওষুধ এগুলো মিলিয়ে আরও ১৫,০০০-২৫,০০০ টাকা যোগ হয়।
ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের ক্ষেত্রে তো আরও ভয়াবহ। কেমোথেরাপি প্রতিটি সেশন ১০,০০০-৩০,০০০ টাকা। রেডিয়েশন থেরাপি আরও বেশি। আমি এক রোগীর কাছ থেকে শুনলাম, তাঁর লিভার ক্যানসারের অপারেশন শেষে কেমো ও রেডিয়েশনে প্রায় ৪ মাস ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
আচ্ছা, ক্লিনিকের পোস্ট-অপারেটিভ ব্যবস্থাপনা ভিন্ন। ছোট ক্লিনিকে অপারেশন শেষে বাসায় চলে যান। সপ্তাহে একবার চেকআপ। খরচ কম, কিন্তু ঝুঁকি বেশি। যদি সংক্রমণ হয়, তাহলে আবার ভর্তি হতে হবে।
বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ: আমি বের করলাম, কিছু ক্লিনিক পোস্ট-অপারেটিভ ফিজিওথেরাপি বা ডায়েট কাউন্সেলিং বিনামূল্যে দেয়। অথচ বড় হাসপাতালে এসব আলাদাভাবে বিল করা হয়। এতে ৫,০০০-১০,০০০ টাকা যোগ হয়।
কার্যকরী পরামর্শঃ অপারেশন করানোর আগেই পোস্ট-অপারেটিভ খরচের একটা লিখিত তালিকা চেয়ে নিন। এতে করে অপ্রত্যাশিত বিল পাওয়ার আশঙ্কা কমবে। এটি আপনার হাসপাতাল বাছাইয়ের জন্য ১০ মিনিটের কাজ।
যাই হোক, এখন আসি আরেকটি বড় প্রশ্নে বিমা কি কাজ দেয়?
স্বাস্থ্যবিমা ও টিউমার অপারেশন: বিমা কি সব খরচ কভার করে?
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিমার কভারেজ এখনও তেমন বিস্তৃত নয়। কিন্তু কিছু বেসরকারি কোম্পানি ও সরকারি স্কিম আছে। আমি কয়েকটি বিমা কোম্পানির তথ্য দেখলাম যেমন প্রগতি ইন্স্যুরেন্স বা গ্রিন ডেল্টা।
তাদের কিছু পলিসি চিকিৎসার খরচের ৭০-৮০% পর্যন্ত কভার করে। কিন্তু একটি বড় শর্ত আছে কোম্পানিগুলো আগে থেকে অনুমোদিত হাসপাতালের তালিকা তৈরি করে দেয়। সেই তালিকার বাইরে গেলে কভারেজ কমে যায়।
আমি বিস্মিত হলাম যখন জানলাম, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা কভার করে না বেশিরভাগ বিমা পলিসি। কারন তাঁরা শুধু বেসরকারি হাসপাতালের সাথে চুক্তিবদ্ধ। সুতরাং আপনি যদি ভাবেন, বিমা করে ফেললাম, তাহলেও খরচের কিছু অংশ নিজেই বহন করতে হবে।
স্বীকৃত অনিশ্চয়তা: সততার সাথে বলছি, বিমার খুঁটিনাটি আমি পুরো বুঝতে পারিনি। প্রতিটি পলিসির শর্ত ভিন্ন। কিছু পলিসি ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের জন্যও দাবি করতে পারে, কিন্তু সেটা নিশ্চিত নয়। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারছি না কোনটি সেরা।
তবে এমন কিছু সরকারি প্রকল্পও আছে যেমন শেখ হাসিনা জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা। সেটা টিউমার অপারেশনের খরচের একটা অংশ কভার করে। কিন্তু তার পূর্ণ বিবরণ সংগ্রহ করা কঠিন।
কার্যকরী পরামর্শঃ আপনি যদি বিমা করে থাকেন, তাহলে এখনই কোম্পানিকে ফোন করে জেনে নিন টিউমার অপারেশনের জন্য কী কী কভারেজ আছে। বিমার পলিসি পড়ে নিশ্চিত হোন। এটি ১৫ মিনিটের মধ্যে শেষ করা যায়। নতুবা বড় বিপদে পড়তে পারেন।
আচ্ছা, সবশেষে আমি একটি জিনিস বলার জন্য বাকি রেখেছি বিভিন্ন জেলার হাসপাতালের খরচের তুলনা।
ঢাকার বাইরে: চট্টগ্রাম ও খুলনার টিউমার অপারেশনের খরচ কেমন?
আমি শুধু ঢাকা নিয়ে কথা বললাম না। চট্টগ্রাম মেডিকেলের তথ্য নিলাম। সেখানকার বেসরকারি হাসপাতালে (যেমন সিএসসিআর) বেনাইন টিউমারের অপারেশন ৩০,০০০-৫০,০০০ টাকায় হয়। ম্যালিগন্যান্টের জন্য ১ লাখ টাকা থেকে শুরু। ঢাকার চেয়ে প্রায় ২০-৩০% কম।
খুলনা মেডিকেলের খরচ আরও কম। বেনাইন টিউমারের জন্য ১৫,০০০-২৫,০০০ টাকা। ম্যালিগন্যান্টের জন্য ৫০,০০০-৮০,০০০। কিন্তু সেখানে উন্নত যন্ত্রপাতি কম। রোগীদের ঢাকায় আসতে হয় বিশেষ করে কেমোথেরাপির জন্য।
পছন্দ ও কারণ: আমি ব্যক্তিগতভাবে চট্টগ্রামের সিএসসিআর-কে এগিয়ে রাখব। কারণ সেখানে দক্ষ ডাক্তার আছেন এবং পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার ভালো। কিন্তু খুলনার সরকারি হাসপাতালের খরচ অনেক কম এটা অস্বীকার করার নয়। তবে সেখানে অপেক্ষাও দীর্ঘ।
কার্যকরী পরামর্শঃ আপনি যদি ঢাকার বাইরে থাকেন এবং অপারেশনের জন্য ঢাকায় আসতে চান, তাহলে ভাড়া, থাকা-খাওয়ার খরচ মিলিয়ে মোট খরচ হিসাব করুন। অনেক সময় স্থানীয় হাসপাতালে করানোই লাভজনক। আপনি এই হিসাবটি ফ্রিতে একটি খাতায় করে নিন।
শেষ কথা
টিউমার অপারেশনের খরচ আসলে কেবল অপারেশন টেবিলের বিল নয় এটা একটা দীর্ঘ যাত্রা। বেনাইন আর ম্যালিগন্যান্টের ফারাক, ক্লিনিক আর হাসপাতালের ব্যবধান, সরকারি আর বেসরকারির মধ্যে দোলাচল সব জেনেও সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু অনুগ্রহ করে শুধু টাকার দিকে তাকাবেন না।
বরং জিজ্ঞেস করুন, আপনার জন্য কোনটা নিরাপদ। আমার মনে হয়, জীবনের এই কঠিন সময়ে খরচের চেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই আসল। আজই একটি বিশ্বস্ত ডাক্তারের পরামর্শ নিন, তারপর হিসাব মেলান।