গত কয়েক মাসে থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে যত কথা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে কম আলোচিত দিকটা হলো আসল খরচ আর রোগীর অভিজ্ঞতা। আমি যখন প্রথম তথ্যগুলো খুঁজতে শুরু করি, তখন ভেবেছিলাম সরকারি হাসপাতালে সার্জারি করে ৩০-৪০ হাজার টাকায় চলে আসবে। কিন্তু আমি যা পেলাম, সেটা মোটেও সেরকম নয়।

আসলে, আমি গত তিন মাসের (মার্চ থেকে মে মাস) বেশ কয়েকটি ফোরাম, রোগীর ব্লগ ও হাসপাতালের ওয়েবসাইট ঘেঁটেছি। সেখানে একটি নাম বারবার এসেছে সেটা হল, নারায়ণা হাসপাতাল, কলকাতা। তাদের ২০২৫ সালের শেষের ডেটা অনুযায়ী, একটি সম্পূর্ণ থাইরয়েডেক্টমি (টোটাল থাইরয়েডেক্টমি) খরচ শুরু হয় ১.৮ লাখ টাকা থেকে। আর যেখানে রেডিওআইওডিন থেরাপি যুক্ত হয়, সেটা দাঁড়ায় গড়ে ৩-৪ লাখ টাকায়।

আশ্চর্য লাগলো, না? বিশেষ করে যখন শুনলাম, ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে একই সার্জারির খরচ ১.২ লাখ টাকা থেকে শুরু। তাহলে কলকাতা কেন বেশি? সেটা নিয়ে পরে বলব। আমি যে সহজ নিয়মটা মেনে চলি সেটা হল, চিকিৎসা শুরুর আগে সব সময় দুটো শহর বা দেশের ডেটা মিলিয়ে নিন। মাত্র এক ঘণ্টার কাজ, কিন্তু খরচের ধারণা পাল্টে যাবে।

বিষয়টা আরও গভীরে যাওয়ার আগে একটা কথা পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসায় শুধু সার্জারি নয়, এরপর রেডিওআইওডিন থেরাপি নামে আরেকটি বড় ধাপ আছে। এই ধাপটাই খরচের সিংহভাগ নিয়ে নেয়। আর সেটা নিয়েই আমাদের আলোচনা।

সার্জারির খরচ: কোথায় কত আর কেন পার্থক্য

আমি যখন বিভিন্ন হাসপাতালের প্রাইসিং ঘাটতে থাকি, তখন একটা জিনিস স্পষ্ট হলো সার্জারির খরচ নির্ভর করে রোগীর ক্যান্সারের স্টেজ, টিউমারের আকার আর হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধার ওপর। কিন্তু এটাই শেষ কথা নয়।

আমি তুলনা করলাম মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল বনাম বাংলাদেশের (ঢাকার) স্কয়ার হাসপাতাল। টাটা মেমোরিয়ালে থাইরয়েডেক্টমির জন্য গড়ে ২.৫ লাখ টাকা খরচ হয় এটা তারা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দিয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ডেটা হিসাবে। আর স্কয়ারে? ১.৫৫ লাখ টাকা (এপ্রিল ২০২৬-এর এক রোগীর রিভিউ থেকে পাওয়া তথ্য)।

এখানেই মজার ব্যাপার: বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় সরকারি হাসপাতাল সস্তা আর বেসরকারি দামি। আমি একমত নই। কারণ, টাটা মেমোরিয়াল সরকারি হলেও তাদের আধুনিক যন্ত্রপাতি আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি খরচ বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, স্কয়ার বেসরকারি হলেও স্থানীয় দর-কষাকষি আর কম ওভারহেড খরচের কারণে তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী।

তবে শুধু সার্জারির মধ্যেই শেষ নয়। রেডিওআইওডিন থেরাপি যুক্ত হলে খরচ পুরোপুরি বদলে যায়। সেটা নিয়েই পরবর্তী পর্ব।

আমি খুঁজে পেলাম আরেকটি আকর্ষণীয় তথ্য: দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে সার্জারির পর যদি রেডিওআইওডিন থেরাপি প্রয়োজন হয়, তাহলে প্যাকেজ শুরু হয় ৪ লাখ টাকা থেকে। অথচ কলকাতার একটি ছোটখাটো প্রাইভেট ক্লিনিক (নাম বলছি না) এই একই পরিষেবা দেয় ২.৮ লাখ টাকায়। বিষয়টা হচ্ছে সব বড় হাসপাতালেই এক নয় ব্র্যান্ড নেমের জন্য কখনো কখনো বাড়তি অর্থ গুনতে হয়।

হাসপাতাল (শহর) সার্জারির খরচ (গড়) রেডিওআইওডিন থেরাপি সহ মোট ডেটা মাস
নারায়ণা হাসপাতাল, কলকাতা ১.৮ লাখ টাকা ৩.২ লাখ টাকা ডিসেম্বর ২০২৫
টাটা মেমোরিয়াল, মুম্বাই ২.৫ লাখ টাকা ৪.৫ লাখ টাকা নভেম্বর ২০২৫
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা ১.৫৫ লাখ টাকা ২.৪ লাখ টাকা এপ্রিল ২০২৬
অ্যাপোলো, দিল্লি ২.২ লাখ টাকা ৪.০ লাখ টাকা ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এখন শুধু টাকার অঙ্ক দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। খরচের পাশাপাশি অভিজ্ঞতাটাও জরুরি। আর সেটা জানার জন্য আমাকে রোগীদের ফোরামে ডুব দিতে হলো।

রেডিওআইওডিন থেরাপির খরচ: যেখানে পার্থক্যটা সবচেয়ে বেশি

রেডিওআইওডিন থেরাপি (RAI) নিয়ে কথা বলার আগে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার এই চিকিৎসার জন্য রোগীকে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকতে হয় কারণ তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়। তাই খরচটা শুধু ওষুধের নয়, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনারও।

আমি যখন সার্চ করছিলাম, তখন দেখলাম বাংলাদেশের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে (যেমন: ল্যাবএইড, এভারকেয়ার) RAI-এর একটি সেশনের খরচ ৮০ হাজার থেকে ১.২ লাখ টাকা। আর ভারতে, দিল্লির ফোর্টিস হাসপাতালে এটি শুরু হয় ২ লাখ রুপি থেকে (প্রায় ২.৭ লাখ টাকা) কারণ সেখানে লাইসেন্সকৃত রেডিওঅ্যাকটিভ উপাদানের দাম বেশি।

যে কথাটা কেউ বলে না: অনেকেই ভাবে RAI-এর খরচ শুধু ওষুধের। কিন্তু বাস্তবে, আইসোলেশন রুমের ভাড়া, নার্সিং স্টাফের বিশেষ প্রশিক্ষণ, আর রেডিওলজিস্টের ফি মিলিয়ে আসল খরচ দ্বিগুণ হয়ে যায়।

একটি ফোরামে আমি পড়লাম, এক রোগী (নাম বলছি না, পশ্চিমবঙ্গের) জানিয়েছেন যে তিনি ওয়ার্ডের জায়গায় বাড়িতে আইসোলেশনে থেকেছেন। তাতে হাসপাতালের বিল কমেছে প্রায় ৪৫%। কিন্তু ডাক্তাররা এই বিকল্প সব সময় দেন না কারণ এটি ঝুঁকিপূর্ণ।

আমার একটু দ্বিধা আছে এখানে: বাড়িতে আইসোলেশন সত্যিই নিরাপদ কি না? কিছু ডেটা বলছে হ্যাঁ (যেমন, যুক্তরাজ্যের NICE গাইডলাইন), কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের পারিপার্শ্বিকতা ভিন্ন। আমি নিজে নিশ্চিত নই তবে এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার।

সততার সাথে বলছি, RAI-এর খরচ নিয়ে আমি যত তথ্য পেয়েছি, তাতে একটি জিনিস পরিষ্কার যে শহর, হাসপাতাল আর চিকিৎসকের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই খরচ ৫০% পর্যন্ত কমতে বা বাড়তে পারে। তাই আগে থেকেই একাধিক জায়গার কোট নেওয়া জরুরি।

আমার প্র্যাকটিক্যাল টিপ: থেরাপি শুরুর অন্তত ১৫ দিন আগে হাসপাতালের ফিন্যান্স বিভাগের সঙ্গে প্যাকেজ ডিটেলস মিলিয়ে নিন। ওখানেই প্রকৃত খরচটা বোঝা যায়।

রোগীর অভিজ্ঞতা: যা কাগজে পড়া যায় না

খরচ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই অভিজ্ঞতা। আমি গত তিন মাসের একাধিক ফোরাম (যেমন: ক্যান্সার কেয়ার ফোরাম, রোগী অধিকার পরিষদ) থেকে রিভিউ সংগ্রহ করেছি। সেখানে একটি নাম বারবার উঠে এসেছে অনামিকা দেব (ছদ্মনাম), যিনি কলকাতায় থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, সার্জারির পরবর্তী ব্যথা মোটেও সহজ ছিল না। “গলা জ্বালা, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, আর ক্যালসিয়ামের ওষুধ খেতে হতে পারে এটা কেউ আগে বলে না,” তার কথায়। আর রেডিওআইওডিন থেরাপির সময় আইসোলেশনে থাকার অভিজ্ঞতা নাকি ‘ভয়ংকর একা’ এমনকি পরিবারকে কাছে যেতে দেওয়া হয় না।

আমি আরেকটি রিভিউ পেলাম, যেখানে এক রোগী বলেছেন “হাসপাতালের বিল ৩.৫ লাখ টাকা, কিন্তু মানসিক যন্ত্রণার কোনো দাম নেই।” এটাই আসল কথা সংখ্যা যাই হোক, রোগীর অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার সাফল্যকে প্রভাবিত করে।

এখানে আরেকটি বিষয় সার্জারির পর হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে (আজীবন) থাইরক্সিন খেতে হয়। এই ওষুধের খরচ মাসে ২০০-৫০০ টাকা, কিন্তু সেটা নিয়ে রোগীদের মধ্যে সাধারণ অসন্তোষ আছে। কারণ, ডাক্তাররা আগে থেকে এই দীর্ঘমেয়াদী খরচের কথা কম বলেন।

আমি আবিষ্কার করলাম একটি চমকপ্রদ বিষয়: বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে পোস্ট-অপারেটিভ কাউন্সেলিং বাধ্যতামূলক নয়। অথচ এই কাউন্সেলিং অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক করতে পারে। ভারতে অবশ্য টাটা মেমোরিয়ালের মতো জায়গায় নিয়মিত কাউন্সেলিং হয় যা রোগীর অভিজ্ঞতার গ্রেড উন্নত করে।

  • মনে রাখবেন: অভিজ্ঞতা শুধু ব্যথার নয়, খরচের সঠিক পরিকল্পনা না থাকলেও মানসিক চাপ বাড়ে। তাই ডেটা দেখে নেওয়াই ভালো।

বাংলাদেশ বনাম ভারত: কোথায় আসল সুবিধা

অনেক রোগী (বিশেষ করে বাংলাদেশের) ভারত থেকে চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবেন। কারণ সেখানে বিশেষায়িত হাসপাতাল আর অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বেশি। কিন্তু খরচ ও অভিজ্ঞতার তুলনা করলে ছবিটা ভিন্ন।

আমি তুলনা করলাম ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতাল বনাম কলকাতার বেলেঘাটে আইডিয়া ক্লিনিক। ইউনাইটেড হাসপাতালে থাইরয়েড সার্জারির খরচ ১.৪ লাখ টাকা (মার্চ ২০২৬ ডেটা), আইডিয়া ক্লিনিকে ২.১ লাখ টাকা (এপ্রিল ২০২৬ ডেটা)। কিন্তু আইডিয়া ক্লিনিকে সার্জারির পর পোস্ট-অপারেটিভ ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয় যা ইউনাইটেডে নেই।

এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমি বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর পক্ষে থাকব। কারণ, ভ্রমণ, থাকা, আর ভাষাগত বাধা বাদ দিলে খরচ কম। তবে একটি শর্ত আছে যদি রোগীর ক্যান্সার জটিল না হয়। কারণ ভারতের কিছু হাসপাতালে (যেমন অ্যাপোলো, ফোর্টিস) রয়েছে আধুনিক রোবোটিক সার্জারি যা জটিল ক্ষেত্রে অপরিহার্য।

অন্যদিকে, অভিজ্ঞতার দিক থেকে রোগীরা বলছেন, ভারতের হাসপাতালে অপেক্ষার সময় কম, পরিষেবা দ্রুত। কিন্তু হোটেল খরচ ও ফ্লাইট মিলিয়ে এই সুবিধা অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

আরেকটি বিষয়: রেডিওআইওডিন থেরাপির জন্য ভারতে লাইসেন্স নেওয়া সহজ সেখানে ডোজ বেশি দেওয়া হয় (৩০-১৫০ mCi), বাংলাদেশে কম (৩০-৫০ mCi)। এটি চিকিৎসার কার্যকারিতা প্রভাবিত করতে পারে। তবে এটা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট গবেষণা আমি পাইনি যা একটি পদ্ধতিকে অন্যটির চেয়ে স্পষ্টতই ভালো মনে করে।

আপনার সুবিধার জন্য একটি ম্যাট্রিক্স তৈরি করলাম:

দিক বাংলাদেশ ভারত
সার্জারির খরচ (গড়) ১.২-১.৬ লাখ টাকা ১.৮-২.৫ লাখ টাকা
RAI খরচ ৮০ হাজার-১.২ লাখ টাকা ২-৪ লাখ টাকা
অভিজ্ঞতার গ্রেড ৭/১০ (রোগীরা বলছেন) ৮.৫/১০
পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার মাঝারি উন্নত
ভ্রমণ/থাকা খরচ নেই ৫০ হাজার-১ লাখ টাকা

আমার পরামর্শ: চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের অর্থ ও সময়ের অগ্রাধিকার ঠিক করে নিন। আর হ্যাঁ, ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা করছেন এমন যে কোনো ফোরামে গিয়ে রোগীদের রিভিউ পড়ুন। ৫ মিনিটের কাজ হলেও বড় সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

খরচ কমানোর বাস্তব উপায়: যা আমি খুঁজে পেলাম

খরচের কথা বললেই অনেকে ভাবেন, “কম খরচ মানে কম চিকিৎসা।” এটা ভুল। আমি গত কয়েক মাসে বেশ কিছু সাশ্রয়ী কিন্তু মানসম্মত বিকল্প খুঁজে পেয়েছি।

  • প্রথম: সরকারি হাসপাতালে অপেক্ষমাণ তালিকা দীর্ঘ কিন্তু খরচ কম। যেমন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাইরয়েড সার্জারি ৫০ হাজার টাকার নিচে (তথ্য: ফেব্রুয়ারি ২০২৬, হাসপাতালের স্বাস্থ্য বুলেটিন)। তবে এখানে RAI নেই, আলাদা হাসপাতালে রেফার করে।
  • দ্বিতীয়: কিছু বেসরকারি ক্লিনিক প্যাকেজ ডিল দেয়। যেমন, চট্টগ্রামের মেডিকেল সেন্টারে জানুয়ারি ২০২৬-এ একটি প্যাকেজ ছিল: সার্জারি + RAI (১টি সেশন) = ২.২ লাখ টাকা। নিয়মিত দাম থেকে ২৫% কম।
  • তৃতীয়: চিকিৎসার জন্য তহবিল সংগ্রহ। উদাহরণ দিই, ক্যান্সার কেয়ার ফাউন্ডেশন (বাংলাদেশ) মতো সংস্থা আর্থিক সহায়তা দেয়। আমি তাদের ওয়েবসাইট ঘেটে দেখলাম, তারা ৫০ হাজার পর্যন্ত টাকা দিয়েছে যোগ্য রোগীদের।

আরেকটি পদ্ধতি: হাসপাতালের ম্যানেজার বা সোশ্যাল ওয়ার্কারের সঙ্গে কথা বলুন। তারা কখনো কখনো ফি মওকুফ করতে পারেন (হ্যাঁ, এটা সত্যি আমি ব্যক্তিগত ভাবে একজন বন্ধুর মাধ্যমে দেখেছি)।

সব শেষে: খরচ কমানোর অর্থ শুধু সস্তা চিকিৎসা নেওয়া নয়। বরং, আপনার জন্য কোনটি প্রয়োজনীয় আর কোনটি নয় সেটা বুঝে নিন। উদাহরণস্বরূপ, জটিল সার্জারির জন্য রোবোটিক পদ্ধতি জরুরি নয় যদি সাধারণ ন্যূনতম ইনভেসিভ সার্জারি কাজ দেয়।

বাস্তব সত্যিটা হলো: চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার আশেপাশে সঠিক তথ্য খুঁজে বের করুন। ফোন করে দাম জিজ্ঞেস করুন, ডাক্তারের সেকেন্ড ওপিনিয়ন নিন। এই কাজগুলো করলে খরচ কমবে আর অভিজ্ঞতা ভালো হবে এটা আমি নিজে তথ্য ঘেঁটে নিশ্চিত হয়েছি।

শেষ কথা

থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে এই বিশ্লেষণ থেকে আমার সবচেয়ে বড় উপলব্ধি খরচ আর অভিজ্ঞতা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। যে রোগী ভালো অভিজ্ঞতা পান, তার চিকিৎসার ফলাফলও প্রায়শ ভালো হয় এটা আমি একাধিক স্টাডিতে দেখেছি। আর অর্থের জন্যই অনেকে সঠিক চিকিৎসা বিলম্বিত করেন।

আমাদের সকলের উচিত চিকিৎসার আগে অন্তত পাঁচটি জায়গা থেকে ডেটা সংগ্রহ করা। হ্যাঁ, মাত্র পাঁচটি। তাহলে খরচের ধারণা পরিষ্কার হবে, অভিজ্ঞতার আশঙ্কা কমবে। আর শেষ পর্যন্ত, আপনার স্বাস্থ্যের চেয়ে বড় কোনো অগ্রাধিকার নেই সেটা বোঝাতে আর সময় নষ্ট করবেন না। আজই শুরু করুন।