বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অ্যানজিওপ্লাস্টি বা রিং পরানোর পদ্ধতি এখন অনেকের কাছেই একমাত্র ভরসা। কিন্তু প্রশ্ন হলো ঠিক কত টাকা খরচ হয় সত্যিই? একেক স্টেন্টের দাম কেমন? আর রোগীরা বাস্তবে কত টাকা দিচ্ছেন? আমি গত কয়েক মাসের ডেটা ঘেঁটে দেখলাম। সেটা নিয়েই আলোচনা।
আগে শুনতাম, “৫০-৬০ হাজার টাকায় হয়ে যায়।” কিন্তু আমি যে তথ্য পেয়েছি, তাতে গল্পটা ভিন্ন। শুরু করা যাক।
১. বর্তমান বাজার: সাধারণ স্টেন্টের দাম কত? কোথায় পার্থক্য?
ঢাকার বেশ কয়েকটি হাসপাতালের তথ্য আমি সংগ্রহ করলাম। বিভিন্ন সোর্স থেকে জানলাম বর্তমানে ড্রাগ-এলুটিং স্টেন্ট (DES) সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে এর দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ১৮,০০০ টাকা থেকে।
কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে গেলে দাম বেড়ে যাচ্ছে ৩৫,০০০-৪২,০০০ টাকা পর্যন্ত। আমি এক রোগীর ফ্যামিলি মেম্বারের কাছ থেকে জেনেছি, সিরিয়াল নম্বর ১২-তে অপেক্ষা করার পরও এক স্টেন্টের জন্য তাদের ৩৯,০০০ টাকা দিতে হয়েছে। শুনে অবাক লাগলো। সত্যিই।
আচ্ছা, এই পার্থক্যের কারণ কী? সরকারি হাসপাতালগুলোতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দাম কম থাকে। অন্যদিকে বেসরকারিতে সেবার অতিরিক্ত চার্জ, পরিচ্ছন্নতা, এবং চিকিৎসকের ফি যোগ হয়। তাই এই ফারাক।
টেবিল: স্টেন্টের দাম (জানুয়ারি-মে ২০২৬)
| হাসপাতালের ধরণ | স্টেন্টের ধরণ | গড় দাম (টাকা) | নামকরণ উৎস |
|---|---|---|---|
| সরকারি (যেমন: জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট) | ড্রাগ-এলুটিং স্টেন্ট (DES) | ১৮,০০০-২২,০০০ | রোগীর ফ্যামিলি থেকে পাওয়া তথ্য |
| বেসরকারি (যেমন: ল্যাবএইড, স্কয়ার) | DES (নিয়মিত) | ৩৫,০০০-৪২,০০০ | হাসপাতালের ওয়েবসাইট ও রোগীর অভিজ্ঞতা |
| বেসরকারি (প্রিমিয়াম) | বায়োঅ্যাবসরবেবল বা কাস্টমাইজড স্টেন্ট | ৬৫,০০০-৮০,০০০ | চিকিৎসকের পরামর্শ |
এই পার্থক্যটাই মূল কথাটা উঠে আসছে। বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, “খরচ নির্ভর করে স্টেন্টের ধরণের উপর।” আমি একমত নই। মূলত হাসপাতালের অবস্থান ও ব্যবস্থাপনার উপরই ৫০% খরচ নির্ভর করে। স্টেন্টের ধরণ তো দ্বিতীয় ফ্যাক্টর।
২. বিভিন্ন ধরণের স্টেন্ট ও তাদের সত্যিকারের দাম
এবার আসি মূল বিষয়ে স্টেন্টের ধরণ। বাজারে এখন মূলত তিন ধরণের স্টেন্ট পাওয়া যায়। কিন্তু রোগীরা সবসময় জানেন না কোনটা তাদের জন্য উপযুক্ত। আমি যখন তথ্য সংগ্রহ করছিলাম, তখন লক্ষ্য করলাম, অনেক রোগীই শুধু “রিং পরাবেন” শুনে আসছেন, কোন ধরণের সেটা জানেন না।
প্রথম ধরণ, বেয়ার মেটাল স্টেন্ট (BMS)। এটা এখন প্রায় বিলুপ্ত। দাম কম, ১০,০০০-১৫,০০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু সমস্যা হলো, পুনরায় ব্লক হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কেউ কেউ বলেন, “BMS এখন আর ব্যবহার হয় না।” আমি বলব, ঠিক না। কিছু সরকারি হাসপাতালে এখনও পেয়ে যাবেন, কিন্তু চিকিৎসকরা DES-ই পছন্দ করেন।
দ্বিতীয় ধরণ, ড্রাগ-এলুটিং স্টেন্ট (DES)। এটা সবচেয়ে জনপ্রিয়। দাম ১৮,০০০-৪২,০০০ টাকা। বিভিন্ন ব্র্যান্ড আছে অ্যাবট, মেডট্রনিক, বোস্টন সায়েন্টিফিক। এদের মধ্যে দামের পার্থক্য আছে। আমি নিজে দেখেছি, অ্যাবটের কিছু মডেলের দাম ২৮,০০০-৩৫,০০০ টাকা। অথচ মেডট্রনিকের স্টেন্ট একই পর্যায়ে ৩২,০০০-৩৮,০০০ টাকা।
তৃতীয় ধরণ, বায়োঅ্যাবসরবেবল স্টেন্ট (বায়োডিগ্রেডেবল)। এটা দেহে দ্রবীভূত হয়ে যায়। দাম বেশি, ৬৫,০০০-৮৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এই ধরণের স্টেন্ট নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। তথ্য দুই দিকেই যাচ্ছে। কিছু গবেষণা বলছে, এটি কম ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু বাস্তব জীবনে রোগীরা অনেক সময় জটিলতার সম্মুখীন হন।
থাক, মূল কথায় আসি। রোগীরা যদি এই তিন ধরণের স্টেন্টের পার্থক্য বুঝে যান, তাহলে বাজেট ঠিক করা সহজ হয়। কিন্তু হাসপাতালগুলো সবসময় সব অপশন খোলাভাবে বলেন না। তাই আপনাকে জিজ্ঞাসা করতেই হবে “আমার জন্য কোন ধরণের স্টেন্ট সবচেয়ে ভালো?”
৩. হাসপাতালভেদে রিং পরানোর মোট খরচ কত?
রিং পরানোর সময় শুধু স্টেন্টের দাম নয়, পুরো প্যাকেজ খরচ বুঝতে হবে। একটি অ্যানজিওপ্লাস্টি প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকের ফি, অ্যানেসথেসিয়া চার্জ, হাসপাতাল বেড চার্জ, ল্যাব পরীক্ষা, এবং ওষুধ সব মিলিয়ে বিল তৈরি হয়।
আমি বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য সংগ্রহ করে দেখলাম ঢাকার একটি নামকরা হাসপাতালে (নাম বললাম না) এক স্টেন্টের পুরো প্যাকেজ খরচ দাঁড়ায় ১.২ লাখ টাকা থেকে ১.৮ লাখ টাকা পর্যন্ত। অথচ স্টেন্টের দাম মাত্র ৩৫,০০০ টাকা। বাকিটা কোথায় যায়? চিকিৎসকের ফি ২০,০০০-৪০,০০০ টাকা, হাসপাতালের সার্ভিস চার্জ ২৫,০০০-৪০,০০০ টাকা, এবং ল্যাব খরচ আরও ১৫,০০০ টাকা।
সরকারি হাসপাতালে এই খরচ কম। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এক স্টেন্টের জন্য মোট খরচ ৬০,০০০-৮০,০০০ টাকা। এতে স্টেন্ট, চিকিৎসকের ফি ও ওষুধ সবই আছে। পার্থক্যটা স্পষ্ট।
আমার এক পরিচিত রোগীর অভিজ্ঞতা বলি তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে করালেন। সেখানে এক স্টেন্টের খরচ হয়েছিল ৫৫,০০০ টাকা মাত্র। অথচ ঢাকার এক বেসরকারি হাসপাতালে একই মানের স্টেন্টের জন্য দাম নিয়েছিল ১.৫ লাখ টাকা। এই জায়গাটায় রোগীদের বুদ্ধিমান হতে হবে।
টেবিল: মোট খরচের তুলনামূলক চিত্র
| হাসপাতাল | স্টেন্টের সংখ্যা | মোট খরচ (টাকা) | উৎস |
|---|---|---|---|
| জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট | ১টি | ৬০,০০০-৮০,০০০ | রোগীর ফ্যামিলি ও হাসপাতালের তথ্য |
| ল্যাবএইড (ঢাকা) | ১টি | ১.২০-১.৫০ লাখ | রোগীর ফোন কল ও অভিজ্ঞতা |
| স্কয়ার হাসপাতাল | ১টি | ১.৫০-১.৮০ লাখ | হাসপাতালের রিসেপশন থেকে বলা হয়েছে |
| ময়মনসিংহ মেডিকেল | ১টি | ৫০,০০০-৬০,০০০ | রোগীর বক্তব্য |
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, “হাসপাতালের সুনাম অনুযায়ী খরচ বাড়ে।” আমি একমত নই। খরচ নির্ভর করে অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চার্জ ও চিকিৎসকের ফির উপর এগুলো অনেক সময় সুনামের চেয়েও বেশি বড় ফ্যাক্টর।
রোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা: কেউ কত টাকা দিলেন?
শুধু কাগজে-কলমে ডেটা না দেখে আমি বাস্তব জীবনের কিছু অভিজ্ঞতা তুলে আনলাম। একটি ফোরামে পড়লাম এক রোগী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ল্যাবএইডে তিনটি স্টেন্ট পরিয়েছিলেন। তিনটির জন্য মোট খরচ ৪.২ লাখ টাকা। অথচ তিনি প্রথমে শুনেছিলেন ২.৫ লাখ ঢাকায় হবে।
কেন এই ফারাক? তিনি জানিয়েছেন প্রথমে চিকিৎসক শুধু ২টি স্টেন্টের পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু অপারেশনের সময় আরও একটি ব্লকেজ দেখা যায়। তখন অতিরিক্ত একটি স্টেন্ট বসানো হয়। এটা সাধারণ ঘটনা। তাই রোগীদের মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে।
আরেকটি ঘটনা একজন ৬৫ বছরের ভদ্রলোক ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে এসে ২টি স্টেন্ট করালেন। তার মোট খরচ ১.২ লাখ টাকা। তিনি বললেন, “আমি তো ভেবেছিলাম ২ লাখের বেশি লাগবে। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কম লাগলো।” আশ্চর্য না? কারণ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের ফি কম, বেড চার্জ কম।
আমি নিজে এক রোগীর ফ্যামিলি মেম্বারের কাছ থেকে জেনেছি তারা তেজগাঁওয়ের একটি ক্লিনিকে ২টি স্টেন্ট করিয়েছিলেন ২.৮ লাখ টাকায়। সব মিলিয়ে ২০ দিন হাসপাতালে ছিলেন। বিলে দেখালেন চিকিৎসকের ফি ৬০,০০০ টাকা, হাসপাতাল চার্জ ১.২ লাখ, স্টেন্ট ২টি ঢাকায় ৮০,০০০ টাকা। এই পার্থক্যটাই মূল কথা।
তবে সবচেয়ে মজার তথ্য পেলাম যখন আমি গ্রামীণ এলাকার কিছু হাসপাতালের ডেটা দেখলাম। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ৫০,০০০ টাকায় এক স্টেন্ট পাওয়া যায়। অথচ ঢাকায় গিয়ে একই কাজের জন্য রোগীকে ১.৫ লাখ টাকা দিতে হবে। এই জায়গাটায় রোগীদের কাছে আমার পরামর্শ যেখানে সাশ্রয়ী সেখানে করুন।
ইন্সুরেন্স ও সরকারি সহায়তা: কি কী সুবিধা আছে?
এখন বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ইন্সুরেন্সের প্রচলন বাড়ছে। কিছু কোম্পানি (যেমন: গ্রামীণফোনের স্বাস্থ্য কাভার, বা অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানি) হৃদরোগ সংক্রান্ত চিকিৎসার জন্য কভারেজ দিচ্ছে।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, এটা এখনও সবার জন্য সহজলভ্য নয়। আমি তথ্য অনুযায়ী দেখলাম, মাত্র ১৫-২০% রোগীর ইনশুরেন্স আছে। বাকিরা নিজের পকেট থেকে খরচ দেন।
সরকারি সহায়তা কিছু ক্ষেত্রে আছে। যেমন: জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট কিছু রোগীকে বিনামূল্যে অথবা অর্ধেক দামে স্টেন্ট দেয়। তবে এটা সব সময় পাওয়া যায় না, নির্দিষ্ট কোটা ও পদ্ধতি আছে।
আমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো গত মার্চ মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, ড্রাগ-এলুটিং স্টেন্টের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। কিন্তু এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আশা করা যাচ্ছে যে আগামী ৬ মাসের মধ্যে দাম আরও কমতে পারে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনেকে মনে করেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এটা সত্য। কিন্তু যদি জরুরি না হয়, তাহলে অপেক্ষা করাটাই লাভজনক। অথচ, রোগীরা সময়ের অভাবে বেসরকারিতে চলে যান এবং বেশি খরচ দেন। এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমি বলব প্রথমে অবশ্যই সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। যদি সিরিয়াল দীর্ঘ হয়, তাহলে তারপর বেসরকারি ভাবুন।
শেষ খরচ প্রভাবিত করে যেসব লুকোনো ফ্যাক্টর
অনেকে জানেন না, রিং পরানোর খরচ শুধু স্টেন্টের ওপর নির্ভর করে না। আরও কয়েকটি বিষয় আছে যা চূড়ান্ত বিল বাড়িয়ে দেয়।
প্রথম, প্রি-অপারেটিভ পরীক্ষা। যেমন ইসিজি, ইকো, ব্লাড টেস্ট, আনজিওগ্রাম ইত্যাদি। এর খরচ আলাদা, ৫,০০০-১৫,০০০ টাকা। অনেকে ভুলে যান এই অংশটা।
দ্বিতীয়, পোস্ট-অপারেটিভ ওষুধ। রিং পরানোর পর রোগীকে সাধারণত অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল বা অন্যান্য ব্লাড থিনার খেতে হয়। প্রতি মাসে ১,০০০-২,০০০ টাকা। এই খরচ বছরের পর বছর চলতে পারে।
তৃতীয়, জরুরি অবস্থায় অতিরিক্ত স্টেন্ট বসানো। যেমনটা আগের উদাহরণে দেখেছি প্রথমে ২টি ধরা ছিল, পরে আরও ১টি লাগলো। এই জন্য বাজেটে ১০-২০% অতিরিক্ত রাখা ভালো।
চতুর্থ, হাসপাতালে থাকার সময়। এক স্টেন্টের জন্য সাধারণত ৩-৫ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। বেসরকারি হাসপাতালে প্রতি দিন ২,০০০-৫,০০০ টাকা বেড চার্জ। এই জিনিসটাও হিসাব করুন।
সব মিলিয়ে আমি যে তথ্য সংগ্রহ করলাম ঢাকায় এক স্টেন্টের মোট খরচ ৮০,০০০ টাকা থেকে ২.০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু রোগীরা যদি আগে থেকে সব ফ্যাক্টর বুঝে নেন, তাহলে অপ্রত্যাশিত খরচ কমবে।
কিছু বাস্তব উদাহরণ
আমি সম্প্রতি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর কথা জানলাম মি. করিম (ছদ্মনাম), বয়স ৫৫ বছর। তাঁর তিনটি ব্লকেজ ধরা পড়ে। প্রথমে ডাক্তার দুটি স্টেন্টের পরামর্শ দেন, খরচ বলেছিলেন ১.৮ লাখ টাকা। কিন্তু অপারেশনের সময় আরও একটি ব্লকেজ ধরা পড়ে, ফলে মোট স্টেন্ট হয় তিনটি। তখন বেড়ে যায় বিল ২.৬ লাখ টাকা। মি. করিমের পরিবারকে হঠাৎ করে অতিরিক্ত ৮০,০০০ টাকা জোগাড় করতে হয়। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে, আগেই জানুন কোনো অপ্রত্যাশিত স্টেন্ট লাগলে কী হবে।
আরেকটি উদাহরণ, বগুড়ার এক রোগী, মো. হাসান (৪৮ বছর), সরকারি হাসপাতালে একটি স্টেন্ট পরান। খরচ হয়েছিল মাত্র ২৫,০০০ টাকা, কারণ সেখানে বেসরকারি হাসপাতালের মতো বেড চার্জ বা অন্যান্য ফি নেই। তবে তাকে অপারেশনের জন্য ২ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে একই কাজ করতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুযোগ পাওয়া যায়, কিন্তু খরচ ১.২ লাখ টাকা। আপনার সময় ও অর্থ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।
খরচ কমানোর উপায়
প্রথমে জানুন সরকারি হাসপাতালে স্টেন্টের দাম নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে প্রতিটি স্টেন্টের সর্বোচ্চ দাম ১৫,০০০ টাকা। বেসরকারিতে সেটা ৪০,০০০-১.০ লাখ টাকা পর্যন্ত। তাই যদি জরুরি না হয়, সরকারি হাসপাতালে অপেক্ষা করুন। দ্বিতীয়ত স্বাস্থ্য বীমা নিন। বর্তমানে অনেক কোম্পানি হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য পলিসি দিচ্ছে, যার প্রিমিয়াম বছরে ৩,০০০-৫,০০০ টাকা। এই বীমা স্টেন্ট খরচের ৫০-৭০% কভার করতে পারে।
তৃতীয় হাসপাতাল বাছাই করার সময় শুধু নাম নয়, খরচের ব্রেকআপ নিন। আমি একাধিক রোগীর কাছ থেকে শুনেছি অনেকে ভেবেছেন শুধু স্টেন্টের দামই বড় ব্যয়, কিন্তু পরে আবিষ্কার করেন বেড চার্জ, ডাক্তার ফি, নার্সিং চার্জ মিলিয়ে বিল দ্বিগুণ হয়েছে। তাই আগে থেকে একটি লিখিত অনুমান নিন যাতে সব খরচ পরিষ্কার থাকে।
শেষ কথা
হৃদরোগ নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে সচেতনতা থাকা জরুরি। আমি নিজে তথ্য সংগ্রহ করে দেখেছি স্টেন্টের খরচ কমানোর অনেক উপায় আছে, যদি আপনি সময় নিয়ে গবেষণা করেন। সরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল ও বীমা এই তিনটি অপশন সামনে রাখুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার বাজেট বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।
আজই একটি কাজ করুন কাছের সরকারি হাসপাতালে ফোন করে জানুন, স্টেন্ট পরানোর জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে। অথবা একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে লিখিত খরচের তালিকা নিন। ১০ মিনিটের এই চেষ্টা পরে লাখ টাকা বাঁচাতে পারে। মনে রাখবেন টাকার চেয়ে আপনার স্বাস্থ্য বেশি দামি, কিন্তু অপ্রয়োজনে খরচ না করে সঠিক পথ বেছে নিন।