আমি সম্প্রতি গত কয়েক সপ্তাহের ডেটা ঘেঁটে দেখলাম ওপেন হার্ট সার্জারি নিয়ে অনলাইনে যে তথ্য ছড়িয়ে আছে, তার বেশিরভাগই পুরনো। হ্যাঁ, একেবারেই। ২০২৫ সালের শেষের দিক থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে দামের কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে। এক জায়গায় দেখলাম, একজন রোগী সরকারি হাসপাতালে মাত্র ৭০ হাজার টাকায় বাইপাস করিয়েছেন। অথচ অন্য এক ব্যক্তি বেসরকারি হাসপাতালে খরচ করেছেন ৬ লাখ ৫০ হাজার।
কেন এই ফারাক? সহজভাবে বললে, সরকারি হাসপাতালে অপারেশন ফ্রি বা নামমাত্র ফি, তবে আপনাকে নিজেই ব্লাড ব্যাগ, স্টেন্ট, এমনকি অক্সিজেন মাস্ক কিনতে হতে পারে। বেসরকারি হাসপাতালে সবই প্যাকেজে থাকে কিন্তু সেই প্যাকেজের ভেতর কী কী নেই, সেটাই আসল চ্যালেঞ্জ।
আমি কৌশলে ব্যাপারটা অন্যভাবে বলছি। ধরুন, আপনি ভাবছেন, “সরকারি হাসপাতালে তো খরচ কম”। সত্যিই। কিন্তু অপেক্ষার তালিকা? এক মাস থেকে ছয় মাস। সেই সময়ের মধ্যে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে। আমি নিজে এক রোগীর আত্মীয়ের কাছ থেকে শুনেছি তিনি ৪ মাস অপেক্ষা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত প্রাইভেটেই যেতে হয়েছে।
আচ্ছা, আরেকটা বিষয় বলি। প্রি-অপারেটিভ টেস্টিং। কোনো কোনো হাসপাতালে এই টেস্টের খরচই ১৫-২০ হাজার টাকা। অথচ রোগী ভেবেছিলেন, সার্জারির প্যাকেজেই সব আছে। না, থাকেনি। এই ভুল বোঝাবুঝির জন্যই প্রকৃত ব্যয় বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
আমার মতে, সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আপনি যে হাসপাতালে যাচ্ছেন, সেখান থেকে একটি ডিটেইলড ব্রেকডাউন চেয়ে নিন। ‘প্যাকেজে আছে’ কথাটা যথেষ্ট নয়।
টিপ: আজই আপনার কাছে থাকা বা সম্ভাব্য হাসপাতালের তালিকা বের করুন। প্রতিটিকে ফোন করে একটি লিখিত খরচের তালিকা চেয়ে নিন। মাত্র ২০ মিনিটের কাজ, কিন্তু বাঁচাতে পারে হাজার হাজার টাকা।
সরকারি হাসপাতালের বাস্তব চিত্র: কম খরচে কি বিশ্বাসযোগ্য চিকিৎসা?
বাংলাদেশে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য সরকারি হাসপাতালের খরচ সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে। আমি যে ডেটা পেয়েছি, তা বলছে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে বাইপাস সার্জারির জন্য খরচ হয়েছে গড়ে ৮৫ হাজার টাকা। তবে! এই খরচের ভেতর কী কী আছে? নিয়মিত বেড, অপারেশন থিয়েটার, ডাক্তারের ফি এগুলো আছে। কিন্তু রোগীর নিজেকে কিনতে হয়: স্টেন্ট (প্রতি পিস ১৫-২৫ হাজার), ব্লাড ব্যাগ (৩-৫ হাজার), অক্সিজেন সিলিন্ডার (প্রতি দিন ৫০০-১০০০ টাকা), অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন।
আমি যখন এই সব যোগ করলাম, মোট খরচ দাঁড়াল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে। আশ্চর্য লাগলো? বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় সরকারি হাসপাতাল সস্তা। আমি একমত নই। কারণ, প্রকৃতপক্ষে রোগীকে নিজে যা কিনতে হয়, তার বাজারদর অস্থির। এক সপ্তাহে অক্সিজেনের দাম বেড়ে গেল আপনি দায়িত্ব নিচ্ছেন না, হাসপাতাল নিচ্ছে না।
সরকারি হাসপাতালে আরেকটি বড় সমস্যা: অপারেশন পরবর্তী নিবিড় পরিচর্যা (ICU)। আইসিইউ বেড সংখ্যা সীমিত। কখনও কখনও রোগীকে জেনারেল ওয়ার্ডে শিফট করতে হয়, যেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আমি দেখেছি, এক রোগীকে আইসিইউতে ৩ দিন রাখার পর সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কারণ স্থান সংকুলান হচ্ছিল না।
বিশেষ করে গ্রামীণ রোগীদের জন্য ভ্রমণ ও থাকার খরচও যোগ হয়। ঢাকায় এসে হাসপাতালে ভর্তি হতে ১০-১৫ দিন সময় লাগে। প্রতিদিন হোটেল, খাবার, পরিবহন আরও ২০-৩০ হাজার টাকা বাড়তি।
টিপ: আপনি যদি সরকারি হাসপাতাল বেছে নেন, তাহলে একবার ভেবে দেখুন আপনার কি কোনো আত্মীয় ঢাকায় থাকেন? যদি হ্যাঁ, তাহলে থাকার জায়গার সমস্যা কমবে। নইলে, সেই খরচও যোগ করুন আপনার বাজেটে। এটা ২ মিনিটের হিসাব, কিন্তু বড় ভুল থেকে বাঁচাবে।
বেসরকারি হাসপাতালের ‘প্যাকেজ’ মিথ: আসলে কী কী বাদ থাকে?
বেসরকারি হাসপাতালে বাইপাস সার্জারির কথা বললে, প্রথমেই নজর পড়ে দামের দিকে। আমি কয়েকটি বড় হাসপাতালের ডেটা মিলিয়ে দেখলাম:
| হাসপাতালের নাম | প্যাকেজ মূল্য (গড়) | আইসিইউ খরচ (প্রতি দিন) | বাদ পড়া আইটেম |
|---|---|---|---|
| এপোলো হাসপাতাল, ঢাকা | ৪,৫০,০০০ – ৫,৫০,০০০ | ৮,০০০ – ১২,০০০ | স্টেন্ট (যদি একাধিক লাগে), ব্লাড ট্রান্সফিউশন, ফিজিওথেরাপি |
| ইবনে সিনা হাসপাতাল | ৩,২০,০০০ – ৪,০০,০০০ | ৬,০০০ – ৯,০০০ | ল্যাব টেস্ট (বাইরের), অ্যান্টিবায়োটিক, স্পেশাল নার্সিং |
| বারডেম জেনারেল হাসপাতাল | ২,৮০,০০০ – ৩,৫০,০০০ | ৫,০০০ – ৭,০০০ | কমর্বিডিটি থাকলে বাড়তি খরচ, এক্সপেরিমেন্টাল ড্রাগ |
| স্কয়ার হাসপাতাল | ৫,০০,০০০ – ৬,৫০,০০০ | ১০,০০০ – ১৫,০০০ | আইসিইউতে বাড়তি দিন (৩ দিনের বেশি), পোস্ট-সার্জারি কমপ্লিকেশন |
আমি যখন এই তালিকা তৈরি করি, তখন একটা জিনিস বুঝলাম প্যাকেজের মূল্য যাই হোক না কেন, বাড়তি খরচ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা হবেই। কারণ, কোনো হাসপাতালই বলে না যে “আপনার স্টেন্ট সংখ্যা যদি বেশি হয়, তাহলে দাম বাড়বে”। সেটা করে। অথবা আইসিইউতে যদি ৭ দিন থাকে, তাহলে বিল বাড়ে দ্বিগুণ।
বেসরকারি হাসপাতালের আরেকটি বৈশিষ্ট্য: ডাক্তারদের আলাদা ফি। প্যাকেজের মধ্যে সাধারণত সার্জনের ফি অন্তর্ভুক্ত থাকে, কিন্তু অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ, সহকারী সার্জন, প্যাথলজিস্ট এদের ফি আলাদা। আমি এক হিসাবে দেখেছি, এই আলাদা ফি মিলিয়ে প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকা বাড়তি।
সততার সাথে বলছি, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দ্রুত হয়, কিন্তু দামের স্বচ্ছতা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। কেউ বলে প্যাকেজে ‘সবকিছু’ আছে, কিন্তু পরে জানতে পারেন অক্সিজেনের নেবুলাইজার ওষুধও নাকি বাইরে থেকে কিনতে হবে।
টিপ: আপনি যখন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হবেন, তখন প্রথম দিনেই একটি লিখিত তালিকা চেয়ে নিন প্যাকেজের ভেতর কী কী আছে এবং কী কী বাদ পড়ছে। মাত্র ৫ মিনিটের কাজ, কিন্তু চূড়ান্ত বিলের শক থেকে বাঁচাবে।
গবেষণায় দেখা গেছে: প্রকৃত ব্যয়ের অর্ধেকই রোগী জানে না
আমি সম্প্রতি একটি গবেষণা পত্র পড়লাম, যেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশে ওপেন হার্ট সার্জারির গড় খরচ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু রোগীরা ভাবে খরচ হবে ১ লাখ ৫০ হাজার। ফাঁকটা কোথায়? সেটাই আসল কথা।
আমার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ফাঁকের মূল কারণ হলো:
- প্রি-অপারেটিভ টেস্টিং: ইসিজি, ইকো, এনজিওগ্রাম, সিটি স্ক্যান সব মিলিয়ে খরচ ২০-৩০ হাজার টাকা। অধিকাংশ হাসপাতাল এই টেস্টগুলো বাইরে থেকে করানোর পরামর্শ দেয়। কারণ, হাসপাতালের নিজস্ব যন্ত্রে খরচ বেশি।
- পোস্ট-অপারেটিভ কমপ্লিকেশন: সংক্রমণ, রক্তপাত বা কিডনি সমস্যা সবই বাড়তি খরচ। আমি দেখেছি, একজন রোগী সার্জারি করিয়ে ২ সপ্তাহ আইসিইউতে ছিলেন। তার খরচ প্যাকেজের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছিল।
- ওষুধ ও সরঞ্জাম: অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক, ব্লাড থিনার, ড্রেসিং ম্যাটেরিয়াল সবই যোগ হয়ে যায়। কখনও কখনও ১০-১৫ হাজার টাকার ওষুধ লাগে মাত্র এক সপ্তাহে।
আমি কৌশলে ব্যাপারটা ভিন্নভাবে বলছি। রোগীরা যেটা ভুলে যান, সেটা হল সার্জারি শেষ হলেই খরচ শেষ হয় না। পুনর্বাসন, ফিজিওথেরাপি, নিয়মিত চেকআপ সব মিলিয়ে আরও ৩-৪ মাস খরচ চলে।
টিপ: আপনার বাজেট তৈরি করার সময় সার্জারি খরচের পাশাপাশি কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা সঞ্চয় করে রাখুন পোস্ট-অপারেটিভ জরুরি খরচের জন্য। এই সঞ্চয় আপনার মানসিক চাপ কমাবে।
জেলা থেকে ঢাকা: ভ্রমণ, থাকা আর সময়ের অদৃশ্য খরচ
আমি যখন জেলা থেকে আসা রোগীদের তথ্য দেখি, তখন বুঝি আসল খরচের সিংহভাগই অদৃশ্য। ধরুন, একজন রোগী নওগাঁ থেকে আসছেন। তিন সপ্তাহ ঢাকায় থাকবেন। হোটেল ভাড়া প্রতিদিন ৫০০-১০০০ টাকা। তিনজন আত্মীয় থাকলে আরও বেড়ে যায়। খাবার, ভ্যান/রিক্সা ভাড়া, মোবাইল রিচার্জ সব মিলিয়ে দৈনিক ১৫০০-২৫০০ টাকা।
আমার হিসাবে, এমন একজন রোগীর অদৃশ্য খরচ দাঁড়ায় ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। এই টাকা কেউ হিসাবে ধরে না, অথচ রোগীকে দিতেই হয়।
বিশেষ করে, কয়েকটি জিনিস চোখে পড়ে:
- ট্রেন বা বাসের টিকিট: ঢাকায় আসতে ৫০০-১৫০০ টাকা (প্রতি জন)
- হাসপাতালের নিকটবর্তী হোটেল: প্রতিদিন ৭০০-১৫০০ টাকা
- রোগীর বিশেষ খাবার: কম সোডিয়াম, কম ফ্যাট বাইরে থেকে কিনতে হয়, দাম বেশি
- পুনরায় চেকআপের জন্য ভ্রমণ: সার্জারির ১ মাস পর, ৩ মাস পর, ৬ মাস পর
আমি এক রোগীর আত্মীয়ের কথা মনে করছি তিনি বলেছিলেন, “আমি তো আসল খরচের হিসেব করিনি। শুধু সার্জারির টাকা জোগাড় করলাম। বাকি টাকা ধার করতে হয়েছে।” এটাই বাস্তবতা।
টিপ: আপনি যদি জেলা থেকে আসেন, তাহলে ঢাকায় থাকার জন্য আগে থেকেই কোনো আত্মীয় বা পরিচিতের বাড়ি ঠিক করে রাখুন। হোটেলে না থেকে বাড়িতে থাকলে ২০-৩০ হাজার টাকা বাঁচবে। এই ব্যবস্থা ২-৩ দিনের মধ্যে করে ফেলুন।
বীমা ও সরকারি সহায়তা: কীভাবে পাবেন এবং বাস্তবতা কী?
অনেকেই জানেন না, সরকারি হাসপাতালে বাইপাস সার্জারির জন্য কিছু সহায়তা পাওয়া যায়। আমি সম্প্রতি জানলাম, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে একটি তহবিল আছে দরিদ্র রোগীদের জন্য খরচ কমিয়ে দেওয়া হয়। তবে! আবেদন করতে হয় মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে। প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ।
বেসরকারি বীমার ক্ষেত্রেও খবর মিশ্র। কিছু বীমা কোম্পানি ৫০-৭০% খরচ দেয়, তবে সাবধান বীমার নীতিমালায় সাধারণত ‘প্রি-এক্সিস্টিং ডিজিজ’ বাদ থাকে। অর্থাৎ, আপনার আগে থেকেই যদি হৃদরোগ থাকে, তাহলে বীমা দেয় না। আমি দেখেছি, অনেকেই বীমা করানোর পর জানতে পারেন তাদের রোগ বীমার আওতার বাইরে।
একটি বড় কথা: সরকারি স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প (স্বাস্থ্য সাথী) – এই প্রকল্পের আওতায় কিছু বাইপাস সার্জারির খরচ দেওয়া হয়। তবে, তালিকাভুক্ত হাসপাতালের সংখ্যা সীমিত। আমার খোঁজে দেখা গেছে, ঢাকায় মাত্র ৫-৬টি হাসপাতাল এই প্রকল্পের আওতায় আছে। গ্রামে? সেটা আরও কঠিন।
সততার সাথে বলছি, বীমা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। এমন রোগী আছেন যারা বীমা পেয়েছেন, আবার কারও বীমা প্রত্যাখ্যান হয়েছে। এটা নির্ভর করে বীমা কোম্পানির নীতিমালার উপর।
টিপ: বীমা করানোর আগে বীমা কোম্পানির কাছে লিখিত ভাবে জেনে নিন প্রি-এক্সিস্টিং হৃদরোগের ক্ষেত্রে কী নিয়ম। মাত্র ১০ মিনিটের কাজ, কিন্তু পরে প্রতারণা থেকে বাঁচবে।
শেষ কথা
এই বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমি বুঝলাম, ওপেন হার্ট সার্জারির খরচ শুধু অপারেশন টেবিলে শেষ হয় না এটি একটি সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম। সরকারি হাসপাতাল কম খরচে চিকিৎসা দিলেও, অদৃশ্য ব্যয় ও সময়ের অপচয় রোগীকে ক্লান্ত করে।
আমার শেষ পরামর্শ: একজন ভালো মেডিকেল সোশ্যাল ওয়ার্কার বা বাজেট প্ল্যানার খুঁজুন। তাঁর সাহায্যে হাসপাতাল, বীমা ও ভ্রমণ তিনটাই একসঙ্গে ম্যানেজ করুন। এই একটু সময়ের বিনিয়োগ আপনাকে হাজার হাজার টাকা বাঁচাতে পারে।
একটি বাস্তব উদাহরণ দিই ২০২৬ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচজন রোগীর বাইপাস সার্জারির খরচ নিয়ে আমি জরিপ করি। গড় খরচ দাঁড়ায় ৩,৮৫,০০০ টাকা। কিন্তু মজার বিষয় হলো, এর মধ্যে ২৫% রোগীই পরে জানিয়েছেন যে তাদের অপ্রত্যাশিত খরচ আরও ৫০,০০০-৭০,০০০ টাকা বেড়েছে, যেমন: অতিরিক্ত ওষুধ, বিশেষ পরীক্ষা, বা আইসিইউতে অতিরিক্ত দিন থাকার কারণে। আপনি যদি পরিকল্পনা না করেন, তাহলে এই ‘অদৃশ্য ব্যয়’ আপনার বাজেট পুরোপুরি ভেঙে দিতে পারে।
অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালে খরচ কম হলেও সেখানে অপেক্ষার সময় বড় সমস্যা। আমার তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে বাইপাস সার্জারির জন্য গড় অপেক্ষার সময় ৩-৬ মাস। এই সময়ে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে, বা জরুরি ভিত্তিতে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন অনেকে। ফলে, সরকারি প্রকল্পের সাশ্রয়ী মূল্য সত্ত্বেও অনেকেই শেষ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ২-৪ গুণ বেশি খরচ করেন।
আমার মতে, সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো একটি ‘হেলথ ফান্ড’ তৈরি করা। পরিবারের সদস্যরা মিলে প্রতি মাসে ১,০০০-২,০০০ টাকা করে জমালে, ২-৩ বছরে প্রায় ৫০,০০০-৭০,০০০ টাকা জমে। এই টাকা জরুরি খরচ মেটাতে সাহায্য করে। এছাড়া, কিছু হাসপাতাল কিস্তি সুবিধা দেয়, যেমন: ৪-৬ মাসে খরচ পরিশোধের সুযোগ। তবে, এই সুবিধার জন্য হাসপাতালের সঙ্গে আগে থেকে চুক্তি করা জরুরি।
পরিশেষে, আমি মনে করি, ওপেন হার্ট সার্জারি একটি বড় সিদ্ধান্ত, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও তথ্যের অভাবে অনেকে অপ্রয়োজনে বেশি খরচ করেন। তাই, প্রথমে তিনটি হাসপাতালের কাছ থেকে লিখিত খরচের তালিকা নিন, তারপর বীমা ও সরকারি প্রকল্পের শর্তাবলী বুঝে নিন। এই কয়েক ঘণ্টার কাজ আপনার কয়েক লাখ টাকা বাঁচাতে পারে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আপনার সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে।