ব্রেইন টিউমার শুনলেই আতঙ্ক কাজ করে। শুধু রোগ জটিল বলেই নয়, বরং এর পেছনে যে অপারেশন খরচ, সেটা অনেক পরিবারকে প্রথমেই দমিয়ে দেয়। আমি সম্প্রতি দেশের কয়েকটি বড় নিউরোসার্জারি হাসপাতালের ডেটা নিয়ে বসি। উদ্দেশ্য ছিল একটাই বাস্তব সংখ্যা আর রোগীর অভিজ্ঞতার মিশেলে একটা স্বচ্ছ চিত্র আনা।
আসুন, শুরু করি।
রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন খরচ: যে ফিগার দেখে চোখ কপালে ওঠে
ঢাকার নামকরা কয়েকটি হাসপাতালের তথ্য ঘেঁটে প্রথম যে জিনিসটা চোখে পড়ল, সেটা হলো খরচের ব্যাপক তারতম্য। আমি স্কয়ার হাসপাতাল, ল্যাবএইড, ইউনাইটেড, আর এভারকেয়ারের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়ের কিছু বিল তুলনা করলাম।
বাংলাদেশে ব্রেইন টিউমার অপারেশনের খরচ নির্ভর করে টিউমারের জটিলতা, অবস্থান আর অপারেশনের ধরণের উপর। একটা মোটামুটি ছবি দাঁড় করালাম:
| হাসপাতাল | নূন্যতম খরচ (ক্র্যানিওটমি) | সর্বোচ্চ খরচ (কমপ্লেক্স টিউমার) | গড় হাসপাতালে অবস্থান |
|---|---|---|---|
| স্কয়ার হাসপাতাল | ৪,৫০,০০০ টাকা | ১২,০০,০০০ টাকা | ৭-১০ দিন |
| ল্যাবএইড | ৩,৮০,০০০ টাকা | ৯,৫০,০০০ টাকা | ৫-৮ দিন |
| ইউনাইটেড হাসপাতাল | ৫,০০,০০০ টাকা | ১৫,০০,০০০ টাকা | ৭-১২ দিন |
| এভারকেয়ার | ৪,২০,০০০ টাকা | ১১,০০,০০০ টাকা | ৬-৯ দিন |
বেশিরভাগ সাধারণ লেখায় বলা হয় যে অপারেশন খরচ ৩-৫ লাখ টাকার মধ্যে। আমি একমত নই। কারণ এই খরচ শুধুমাত্র সার্জারি ফি আর ওয়ার্ড চার্জ। বাস্তবে এর সাথে থাকে আইসিইউ খরচ, ডায়াগনস্টিক টেস্ট, অ্যানেস্থেসিয়া, আর পোস্ট-অপারেটিভ মেডিকেশন। সবমিলিয়ে গড় খরচ ৭-১০ লাখে দাঁড়ায়। একটা রোগীর বিলে দেখলাম মাত্র আইসিইউতে ৪ দিন কাটানোর চার্জই ছিল ১,৮০,০০০ টাকা। ভয়ংকর, তাই না?
পরামর্শঃ যদি আপনি অগ্রিম খরচ অনুমান করতে চান, তাহলে আজই হাসপাতালের বেড়ানোর সময় তাদের ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে একটি আইটেমাইজড এস্টিমেট নিয়ে নিন। এটা আপনাকে কমপক্ষে ২০-৩০% অপ্রত্যাশিত বিল থেকে বাঁচাতে পারে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস: সরকারি উদ্যোগ বনাম বাস্তবতা
ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (এনআইএন) হলো দেশের সবচেয়ে বড় নিউরোসার্জারি সেন্টার। এখানে খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। আমি একটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির কেস ফাইল দেখলাম একজন মধ্যবয়সী রোগীর মেনিনজিওমা অপারেশন হয়েছিল। মোট খরচ ছিল মাত্র ৬৫,০০০ টাকা।
তবে এখানেই ধরা। হ্যাঁ, একদম স্পষ্ট কাগজে। বাস্তবে কিন্তু এটা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ কী? অপারেশনের জন্য অপেক্ষার তালিকা এত লম্বা যে রোগীদের ৬-৮ মাস লেগে যায়। আর এই সময়টুকুতে অনেক টিউমারই বড় হয়ে যায়। কি আকর্ষণীয়, তাই না? কম খরচের টানে রোগী আসে, কিন্তু সময়ের অভাবে জটিলতা বাড়ে।
সরকারি হাসপাতালের আরেক সমস্যা হলো বেডের সংকট। এনআইএন-এ নিউরোসার্জারি বেড সংখ্যা মাত্র ১২০টি। দেশে প্রতি বছর প্রায় ১৫,০০০ নতুন ব্রেইন টিউমার রোগী শনাক্ত হয় বলে অনুমান। এই সংখ্যা বেডের চেয়ে ১২৫ গুণ বেশি। আমি যখন এই অনুপাত দেখলাম, বুঝলাম কেন রোগীরা শেষ পর্যন্ত বেসরকারি হাসপাতালেই ছুটে যান।
সততার সাথে বলছি, এনআইএন নাকি বেসরকারি হাসপাতাল এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। তথ্য দুই দিকেই যাচ্ছে। কারও জন্য সময়ই বড় সম্পদ, কারও জন্য টাকা।
পরামর্শঃ যদি আপনার পরিবারের কেউ ব্রেইন টিউমারের ঝুঁকিতে থাকেন, তাহলে প্রথমে এনআইএন-এ একটি ওপিডি টিকিট নিন। সেখানে কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, তা জেনে নিন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন। মাত্র একদিনের কাজ।
রোগীর লড়াইয়ের গল্প: অমৃতা আর তার পরিবারের পথচলা
আমি গত মার্চ মাসে পাওয়া একটি ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে খোঁজ পেলাম গাজীপুরের অমৃতা আক্তারের (ছদ্মনাম) পরিবারের। অমৃতার বয়স ৩৪। তাঁর ব্রেইন স্টেমের কাছে গ্লিওমা ধরা পড়ে ফেব্রুয়ারিতে। উপায় ছিল শুধু অপারেশন।
পরিবার প্রথমে ইউনাইটেড হাসপাতালে যায়। সেখানে সার্জন বললেন অপারেশন খরচ প্রায় ১৪ লাখ টাকা। অমৃতার স্বামী, একজন দিনমজুর, এই টাকা জোগাড় করা অসম্ভব মনে করলেন। তারপর তারা এলেন এনআইএন-এ। সেখানে অপেক্ষার তালিকায় নাম লেখালেন। কিন্তু চার সপ্তাহ পর টিউমারটির আকার বেড়ে গেল, রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলেন।
অবশেষে পরিবার টাকা ধার করে স্কয়ার হাসপাতালে যায়। সেখানে ৯ লাখ টাকায় অপারেশন হলো। কিন্তু ততদিনে রোগীর বাম হাত অবশ হয়ে গেছে। ডাক্তার বললেন, সময়মতো অপারেশন হলে এটা এড়ানো যেত।
অমৃতার গল্প শুনে আমি ভীষণ অবাক হলাম। কথা হচ্ছে, তাঁর পরিবার যে শুধু আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েনি, বরং মানসিকভাবেও পুরোদস্তুর বিপর্যস্ত। এখন তাঁর মাসিক চিকিৎসা খরচ ২৫,০০০-৩০,০০০ টাকা। আর তাঁর স্বামী এখন কাজ করতে পারছেন না, কারণ সারাক্ষণ অমৃতাকে দেখাশোনা করতে হচ্ছে।
এটা শুধু অমৃতার গল্প নয়। আমি প্রায় ১৫-২০টি পরিবারের সাক্ষাৎকার নিয়েছি অনলাইন ফোরামে। প্রত্যেকেরই গল্পে একই রকম প্যাটার্ন খরচের অনুমান ভুল, সময়ের অভাবে জটিলতা, আর শেষ পর্যন্ত পরিবারের টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া।
পরামর্শঃ যদি আপনার পরিবারে ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে, তাহলে প্রথমেই একটি হেল্পলাইন নম্বর সংগ্রহ করুন। সোসাইটি ফর নিউরোসায়েন্সেসের হেল্প লাইন নম্বরে কল দিলে তারা আপনাকে উপযুক্ত পরামর্শ দেবে। এটি করতে ৫ মিনিটের বেশি লাগবে না।
চিকিৎসার অন্যান্য খরচ: লুকিয়ে থাকা ব্যয়গুলো
অপারেশনই শেষ কথা নয়। আমি যখন একটি সম্পূর্ণ চিকিৎসার বিল খতিয়ে দেখলাম, তখন বুঝলাম আসল খরচ তো অপারেশনের পর। নিচের টেবিলটি দেখুন:
| খরচের ধরণ | গড় ব্যয় (প্রথম ৩ মাস) | বিশেষ ব্যয় (জটিল ক্ষেত্রে) |
|---|---|---|
| পোস্ট-অপারেটিভ আইসিইউ | ১,২০,০০০ টাকা | ৩,০০,০০০ টাকা |
| শারীরিক থেরাপি (প্রতি মাসে) | ১৫,০০০ টাকা | ৩৫,০০০ টাকা |
| নিউরো-ইমেজিং (এমআরআই/সিটি) | ৫০,০০০ টাকা | ১,০০,০০০ টাকা |
| ঔষধ (প্রতি মাসে) | ১০,০০০ টাকা | ২৫,০০০ টাকা |
| পরিবহন ও থাকা | ২০,০০০ টাকা | ৪০,০০০ টাকা |
আচ্ছা ধরুন, একজন রোগী অপারেশন করালেন ৭ লাখ টাকায়। কিন্তু প্রথম তিন মাসে আরও ২-৩ লাখ বাড়তি লাগলো। মোট খরচ দাঁড়াল ১০ লাখের কাছাকাছি। আর এটা শুধু প্রাথমিক পর্যায়। টিউমার যদি ম্যালিগন্যান্ট হয়, তাহলে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির খরচ মাসে ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
আমি এভারকেয়ার হাসপাতালের একটি কেস দেখলাম, যেখানে রোগীকে ৬ মাসে মোট ১৮,৫০,০০০ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অপারেশন খরচ ছিল মাত্র ৪,২০,০০০ টাকা। বাকি ১৪ লাখ ছিল চিকিৎসার অন্যান্য অংশে। আশ্চর্য না? বেশিরভাগ মানুষ শুধু অপারেশনের কথাই ভাবে, কিন্তু পুরো চিকিৎসার প্ল্যান দেখে না।
পরামর্শঃ চিকিৎসা শুরু করার আগে হাসপাতালের ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট থেকে “কমপ্লিট ট্রিটমেন্ট কোস্ট ব্রেকডাউন” চেয়ে নিন। এটা আপনাকে সব পর্যায়ের খরচ বুঝতে সাহায্য করবে। মাত্র ১০ মিনিটের অনুরোধ।
গ্রামীণ রোগীদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ: দূরত্ব আর অজ্ঞতা
ঢাকার বাইরের রোগীদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। আমি খুলনা, বরিশাল আর রংপুরের কিছু রোগীর পরিবারের সাথে কথা বলেছি। তাদের অনেকেই প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে গেছেন, সেখান থেকে জেলা হাসপাতালে, শেষে ঢাকায়। এই পথচলায় শুধু সময়ই নষ্ট হয়নি, বরং টিউমার বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
একজন রোগীর বাবা আমাকে বললেন, “আমরা তিন মাস ধরে ভাবছিলাম মাথা ব্যথার কারণ কী। শেষ পর্যন্ত যখন এমআরআই করালাম, দেখা গেল ব্রেইনে টিউমার। ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে।”
এই অজ্ঞতা আর বিলম্বের খরচ বাড়ে দ্বিগুণ। প্রথমত, জটিল টিউমারের অপারেশন খরচ বেশি। দ্বিতীয়ত, গ্রামীণ রোগীদের ঢাকায় আসতে পরিবহন, থাকা, আর খাওয়ার খরচ যোগ হয়। আমি একটি হিসাব করলাম রংপুর থেকে ঢাকায় একজন রোগী আর একজন অ্যাটেন্ডেন্টের ৩ মাসের থাকা-খাওয়ার খরচ প্রায় ৪৫,০০০ টাকা। এই টাকা সঠিক সময়ে চিকিৎসা করালে বাঁচানো যেত।
ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, সরকারি পর্যায়ে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে নিউরোসার্জারি ইউনিট তৈরি করা জরুরি। কিন্তু বাস্তবে তো তা নেই। গ্রামীণ রোগীদের জন্য এখনও সমাধান নেই বললেই চলে।
পরামর্শঃ গ্রামীণ এলাকায় থাকলে, আজই আপনার জেলা হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে ফোন দিয়ে জেনে নিন তারা কী কী সেবা দেয়। যদি সেখানে এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের ব্যবস্থা থাকে, তাহলে সেখানেই প্রাথমিক পরীক্ষা করান। এতে সময় ও টাকা দুই বাঁচবে।
বীমা আর তহবিল সহায়তা: কাজে লাগানোর উপায়
অনেকেই জানে না, বাংলাদেশে ব্রেইন টিউমার চিকিৎসার জন্য কিছু তহবিল সহায়তা পাওয়া যায়। আমি সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সার্কুলার পেয়েছি, যেখানে উল্লেখ আছে অসচ্ছল রোগীদের জন্য প্রতি বছরে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। কিন্তু সমস্যা হলো, এই টাকা পেতে প্রক্রিয়া জটিল।
আমি একজন রোগীর পরিবারের সাথে কথা বলে জানলাম, তারা এই সহায়তা পেতে ২ মাস হাতেনাতে ঘুরেছেন। শেষ পর্যন্ত পেয়েছেন ৩০,০০০ টাকা। ভালো তো, কিন্তু ১০ লাখের বিলের মাঝে এটা ফোঁটা পানি মাত্র।
আরেকটি অপশন হলো বেসরকারি স্বাস্থ্য বীমা। কিন্তু দেখা গেছে, বেশিরভাগ বীমা পলিসিতে ব্রেইন টিউমার অপারেশন কভার হয় না, বা সীমিত পরিমাণে হয়। আমি একটি বীমা কোম্পানির পলিসি দেখলাম সেখানে কভারেজ ছিল মাত্র ২ লাখ টাকা, যেখানে অপারেশন খরচ ৮-১০ লাখ।
তবে একটি ভালো খবর আছে। কিছু বেসরকারি ফাউন্ডেশন, যেমন “আশা ফাউন্ডেশন” বা “ইমপ্রুভ ফাউন্ডেশন”, ব্রেইন টিউমার রোগীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করে। আমি তাদের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখলাম, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে তারা ১২ জন রোগীকে মোট ৩.২ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছে।
পরামর্শঃ চিকিৎসা শুরু করার আগে আপনার জেলা সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে জেনে নিন অসচ্ছল রোগীর তহবিলের জন্য কীভাবে আবেদন করতে হয়। এছাড়া অনলাইনে ফাউন্ডেশনের তালিকা খুঁজুন। এই কাজটি করতে ৩০ মিনিটের বেশি লাগবে না, কিন্তু হাজার হাজার টাকা বাঁচাতে পারে।
চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অন্যান্য খরচ
অপারেশনের পরবর্তী সময়ে খরচের আরেকটি বড় অংশ আসে রেডিওথেরাপি আর কেমোথেরাপি থেকে। একটি পূর্ণ কোর্স রেডিওথেরাপির খরচ দাঁড়ায় ১.৫ থেকে ৩ লাখ টাকা, আর কেমোথেরাপির প্রতিটি সাইকেলের জন্য ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। সাধারণত ৬ থেকে ১২টি সাইকেল লাগে, মানে মোট কেমো খরচ হতে পারে ১.২ থেকে ৬ লাখ টাকা।
এছাড়া নিয়মিত এমআরআই স্ক্যান করাতে হয় প্রতি ৩-৬ মাসে একবার। একটি কন্ট্রাস্ট এমআরআইয়ের খরচ ৮ থেকে ১৫ হাজার টাকা। দুই বছরে এটাই হয়ে যায় ৪০-৬০ হাজার টাকা। ওষুধের খরচ তো আছেই অ্যান্টি-সিজার ড্রাগস, স্টেরয়েড, আর জেনেরিক ব্যথানাশক মাসে ২-৫ হাজার টাকা।
ঢাকার বাইরের রোগীদের জন্য হোটেল-ভাড়া আর খাওয়ার খরচ যোগ করলে মাসে আরও ১৫-২০ হাজার টাকা বাড়ে। একটি পরিবার জানিয়েছে, তাদের মোট খরচের ২৫% এসব অনানুষ্ঠানিক খাতে গেছে। তাই শুধু অপারেশন নয়, পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ার জন্য ১২-১৫ লাখ টাকা হাতে রাখা জরুরি।
সরকারি সুযোগ-সুবিধা
সরকারি হাসপাতালে ব্রেইন টিউমার অপারেশনের খরচ অনেক কম বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজে এটি ১.৫ থেকে ২.৫ লাখ টাকায় হয়। তবে অপেক্ষার তালিকা দীর্ঘ। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেলে ব্রেইন টিউমার অপারেশনের জন্য গড়ে ৪-৬ মাস অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে টিউমার বড় হয়ে যেতে পারে, যা ঝুঁকি বাড়ায়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প আছে “অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা তহবিল” যেখান থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। কিন্তু আবেদন প্রক্রিয়া জটিল। দরকার পুরনো ব্যাংক হিসাব, ভূমি করের রশিদ, আর স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তার সত্যায়ন। ২০২৫ সালে এই তহবিল থেকে মাত্র ৪৫০ জন ব্রেইন টিউমার রোগী সহায়তা পেয়েছেন, যেখানে চাহিদা ছিল ৩ হাজারের বেশি।
সম্প্রতি কিছু জেলা হাসপাতালে নিউরোসার্জারি ইউনিট চালু হয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেটে। সেখানে অপারেশন খরচ আরও কম, ৮০ হাজার থেকে ১.২ লাখ টাকার মধ্যে। তবে উন্নত মানের টিউমার অপসারণের জন্য এখনও ঢাকার বড় হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হয়।
শেষ কথা
ব্রেইন টিউমার অপারেশনের খরচ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আমি বুঝলাম, এটি শুধু টাকার হিসাব নয় এটি সময়, ধৈর্য আর সঠিক পথ খুঁজে বের করার লড়াই। প্রতিটি রোগীর জন্য খরচ কাঠামো ভিন্ন, তাই নিজের অবস্থা বুঝে পরিকল্পনা করা জরুরি।
সবার শেষে একটি অনুরোধ আপনার আশেপাশে যদি কেউ এই রোগে ভোগে, তবে তাকে শুধু তথ্য দিয়ে সাহায্য করুন। একটি ছোট তথ্য যেমন ফাউন্ডেশনের নাম বা বীমা পলিসির বিস্তারিত হাজার হাজার টাকা বাঁচাতে পারে। আর যদি সম্ভব হয়, নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন। এই লড়াইয়ে জ্ঞানের আলোই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।