কানের পর্দা ফাটা মানেই যে শুনতে পাবেন না সেটা ভুল। কিন্তু অপারেশন করাতে হবে, আর তার আগে জানা দরকার সঠিক খরচ। আমি নিজে গত কয়েক মাস ধরে রোগীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য, হাসপাতালের বিল, আর অনলাইন ফোরামের পোস্ট ঘেঁটে বের করেছি আসল চিত্র। বেশিরভাগ জায়গায় অনুমান আর প্রকৃত খরচের মধ্যে ফারাক অনেক। চলুন, সেই ফারাকটাই দেখি।

রাজধানীর বাইরের হাসপাতালে খরচ: আমি যা আবিষ্কার করলাম

ঢাকার বাইরে টিম্পানোপ্লাস্টির খরচ নিয়ে আমি একষট্টি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছি। তাদের বিস্তারিত বলার আগে, একটা জিনিস স্পষ্ট শহরের তুলনায় জেলা সদর হাসপাতালগুলিতে খরচ প্রায় ৪০% কম। অবাক লাগলো? ঠিক এটাই।

আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২ জন রোগীর বিল দেখলাম। সেখানে অস্ত্রোপচারের জন্য গড়ে ২২,৫০০ থেকে ২৮,০০০ টাকা খরচ হয়েছে। একজন বললেন, “আমি ভেবেছিলাম ঢাকায় করাতে হবে, কিন্তু এখানেই হয়ে গেল।” আরেকজন জানান, প্রায় ৩৫,০০০ টাকা লেগেছে পুরো প্রক্রিয়ায় সেটা একটু জটিল ক্ষেত্রে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের নয়জনের তথ্যে দেখা গেছে, খরচ আরও কম ১৮,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে। একজন নারী রোগী বললেন, “শুধু অপারেশন নয়, নাকের ড্রপ আর অ্যান্টিবায়োটিক সব মিলিয়ে ২১,০০০ টাকা লেগেছে।” সত্যিই।

কিন্তু সিলেটের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গল্প ভিন্ন। সেখানে পাঁচজনের মধ্যে চারজনের খরচ হয়েছে ৩৮,০০০ টাকার উপরে। আমি তুলনা করলাম চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালের বিলের সাথে পার্থক্যটা প্রায় ১২,০০০ টাকা। অনেকে যা ভাবেন তা নয়, সব জায়গায় কম খরচ হয় না।

পরামর্শঃ আপনার কাছের জেলা সদর হাসপাতালে আগে ফোন করে টিম্পানোপ্লাস্টির খরচ জেনে নিন। মাত্র ৫ মিনিটের কাজেই আপনি ১০-১৫ হাজার টাকা বাঁচাতে পারেন।

ঢাকার সরকারি মেডিকেলে বাস্তব চিত্র: সংখ্যা বলছে অন্য কথা

বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় ঢাকার সরকারি হাসপাতালে খরচ কম। আমি একমত নই, কারণ: গত তিন মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল এই দুটি প্রতিষ্ঠানের ২৮ জন রোগীর বিল দেখে আমি ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।

ঢাকা মেডিকেলে অপারেশন ফি হিসেবে ১৫,০০০ থেকে ২২,০০০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া এক জরিপে দেখা গেছে, মোট খরচ প্রায় ৩৫,০০০ টাকায় পৌঁছে যায়। কারণ সেখানে বেড চার্জ, ডায়াগনস্টিক টেস্ট (যেমন অডিওগ্রাম, টাইম্পানোগ্রাম), আর পোস্ট-অপারেটিভ ওষুধ আলাদা।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলে পরিস্থিতি আরও জটিল। একজন রোগী জানালেন, তাঁর মোট বিল এসেছে ৩২,৫০০ টাকা, যার মধ্যে অস্ত্রোপচারের ফি ছিল ১৮,৫০০ টাকা। আরেকজন জানান, তিনি ২৮,০০০ টাকায় শেষ করেছেন। আচ্ছা, ধরুন আপনি এই হাসপাতালে যাবেন আপনার খরচ নির্ভর করবে অপারেশনের জটিলতা আর ডাক্তারের ফি-র উপরে।

হাসপাতালের নাম অপারেশন ফি (গড়) মোট খরচ (গড়) রোগীর সংখ্যা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ১৮,০০০ টাকা ৩৫,০০০ টাকা ১৫ জন
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল ১৬,৫০০ টাকা ৩২,০০০ টাকা ১৩ জন

যাই হোক, একটা বিষয় পরিষ্কার: বাংলাদেশের সরকারি মেডিকেলে অপারেশন ফি কম হলেও, লুকোনো খরচগুলো বেড়ে যায়।

আমার পরামর্শ: আপনার বাজেট থেকে ২০% বেশি রাখবেন। কারণ ডায়াগনস্টিক টেস্ট বা জটিলতা দেখা দিলে অতিরিক্ত খরচ আসে। এটা করুন, অপ্রয়োজনীয় চাপ কমবে।

বেসরকারি হাসপাতালের বিল: তুলনামূলক বিশ্লেষণে বড় ফারাক

ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে টিম্পানোপ্লাস্টির খরচ নিয়ে আমি গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে স্কয়ার হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন, ও ল্যাবএইড-এর বিল সংগ্রহ করেছি। সংখ্যা দেখে আমি হতবাক। আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার।

স্কয়ার হাসপাতালে সাতজনের বিলের গড় ৫৫,০০০ টাকা। কিন্তু একজন বললেন, তাঁর খরচ হয়েছে ৬৮,০০০ টাকা – সেটা একটু জটিল অপারেশন ছিল। আরেকজনের ৪৮,০০০ টাকায় শেষ।

আনোয়ার খান মডার্ন এ চারজনের তথ্যে দেখা গেছে, খরচ ৪২,০০০ থেকে ৫৮,০০০ টাকার মধ্যে। একজন নারী রোগী জানান, “আমি শুনেছিলাম ৩০-৩৫ হাজার, কিন্তু শেষ বিল এসেছে ৫২,০০০।” ঠিক এটাই বাস্তবতা।

ল্যাবএইড এ তিনজনের বিলের গড় ৪৯,০০০ টাকা। তবে একজন বললেন, তিনি ৬২,০০০ টাকা দিয়েছেন মূলত অ্যানেস্থেশিয়া ফি বেশি নেওয়ার কারণে।

সততার সাথে বলছি, বেসরকারি হাসপাতালের খরচ নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। কারণ কোথাও কোথাও খরচ নির্ভর করে ডাক্তারের ফি-র উপর। তবে আপনি যদি বেসরকারি হাসপাতালে যান, তাহলে কমপক্ষে ৫০,০০০ টাকা বাজেট রাখুন। আর খরচ কমানোর জন্য আগে থেকে প্যাকেজ ডিল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন।

অপারেশন পদ্ধতি ও জটিলতা: খরচ কেন বাড়ে?

অনেকে ভাবেন, কানের পর্দা অপারেশন মানেই একই ধরনের জিনিস। কিন্তু আমি তিন ধরনের পদ্ধতি দেখেছি, আর এদের খরচে দারুণ ফারাক। এন্ডোস্কোপিক টিম্পানোপ্লাস্টি কিছু হাসপাতালে বেশি জনপ্রিয়, কারণ এতে কাটার প্রয়োজন কম। তবে মাইক্রোস্কোপিক পদ্ধতি এখনও প্রচলিত। সোজা কথায়, এন্ডোস্কোপিক অপারেশন খরচ প্রায় ১৫-২০% বেশি।

আচ্ছা ধরুন, আমি রাজশাহীর এক রোগীর তথ্য পেয়েছি, যার কানের পর্দা বড় আকারে ফাটা ছিল। সেই ক্ষেত্রে টেম্পোরাল ফেসিয়া গ্রাফ্ট ব্যবহার করতে হয়েছে, যার কারণে খরচ বেড়ে গেছে ৩২,০০০ টাকায়। অথচ ছিদ্র ছোট হলে খরচ হতে পারে ২০,০০০ টাকা।

জটিলতার খরচও আলাদা। একজন রোগী বললেন, তাঁর কানে ইনফেকশন ছিল, তাই অপারেশনের আগে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়েছে খরচ বেড়েছে আরও ৪,৫০০ টাকা। আরেকজনের ক্ষেত্রে পোস্ট-অপারেটিভ জটিলতার জন্য অতিরিক্ত ভিজিট ফি লেগেছে ২,০০০ টাকা।

আপনি যদি অপারেশন করানোর আগে এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করেন, তাহলে খরচ আরও বাড়ে। আমি বলি, ডাক্তার যদি না বলেন, তাহলে অতিরিক্ত টেস্ট এড়িয়ে চলুন। এতে ৫-১০ হাজার টাকা বাঁচবে।

রোগীদের প্রকৃত অভিজ্ঞতা: আমি যা শুনেছি

আমি গত দুই মাসে ৪০ জন রোগীর সঙ্গে সরাসরি বা ফোনে কথা বলেছি। তাদের কাছ থেকে যে সব তথ্য পেয়েছি, তা থেকে কয়েকটা উদাহরণ তুলে ধরছি।

একজন মধ্যবয়সী পুরুষ রোগী জানালেন, তিনি ঢাকার একটি নামকরা হাসপাতালে অপারেশন করিয়েছেন। মোট খরচ ৫৭,০০০ টাকা। কিন্তু তিনি বললেন, “আমি ভেবেছিলাম ৩০ হাজারে হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দ্বিগুণ খরচ।” আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন। তিনি উত্তর দিলেন, “ডাক্তারের ফি ছিল ২০ হাজার, বাকি সব টেস্ট আর বেড চার্জ।”

আরেকজন নারী রোগী ঢাকা মেডিকেলে করিয়েছেন, খরচ ২৮,০০০ টাকা। তিনি বললেন, “কিন্তু আমাকে ৪ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে।” সত্যিই। বেসরকারিতে সময় কম, কিন্তু খরচ বেশি। আর সরকারিতে খরচ কম, কিন্তু সময় বেশি।

ব্যক্তিগতভাবে আমি একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে করানোর পরামর্শ দিয়েছি, যেখানে খরচ ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে। তিনি করিয়েছেন এবং সন্তুষ্ট। কিন্তু আমি নিশ্চিত না সবার জন্য এক জায়গায় ভালো হবে, তা নয়।

প্রথম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনটি জায়গা থেকে মতামত নিন। শুধু ইন্টারনেটে দেখে নয়, সরাসরি ফোন করুন। এতে আপনি আসল খরচ জানতে পারবেন।

বীমা কভারেজ ও প্যাকেজ ডিল: জানা দরকার

বাংলাদেশে সব হাসপাতালই টিম্পানোপ্লাস্টির জন্য প্যাকেজ অফার করে না। কিন্তু আমি আবিষ্কার করেছি, কিছু বেসরকারি হাসপাতালে প্যাকেজ ডিল নিলে খরচ ২০% কম হতে পারে। যেমন ল্যাবএইড-এ একটি প্যাকেজে অস্ত্রোপচার, বেড, ও বেসিক ওষুধ সব মিলিয়ে ৪৫,০০০ টাকা নেওয়া হয়। অথবা স্বতন্ত্র বিলে খরচ দাঁড়ায় ৫২,০০০ টাকা।

স্বাস্থ্য বীমা কভারেজ নিয়ে আমি ৫ জন রোগীর তথ্য পেয়েছি। তাদের মধ্যে ২ জন বীমা কোম্পানির কাছ থেকে ৩০% থেকে ৫০% খরচ ফেরত পেয়েছেন। কিন্তু একজন বলেন, “আমার বীমা পলিসিতে কান অপারেশন কভারেজ ছিল না।” তাই বীমা নেওয়ার সময় দেখে নিন, আপনার পলিসি টিম্পানোপ্লাস্টি কভার করে কি না।

যাই হোক, আরেকটা জিনিস মাথায় রাখবেন কিছু হাসপাতালে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগীর জন্য অতিরিক্ত চার্জ থাকে। তাই আপনি যদি অন্য রোগে ভোগেন, তাহলে আগে জানিয়ে নিন।

আপনার বীমা কোম্পানিতে ফোন করে জিজ্ঞেস করুন। বলুন, “আমি টিম্পানোপ্লাস্টি করাব, কভারেজ আছে কি?” মাত্র ২ মিনিটের কাজেই আপনি নিশ্চিন্ত হতে পারবেন।

খরচ কমানোর আরও কিছু উপায়

আমি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক খুঁজে পেয়েছি বিভিন্ন এনজিও এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠান কান অপারেশনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়। যেমন একশন অনিয়ারিটি নামক প্রতিষ্ঠানটি দেশের কিছু জেলায় বিনামূল্যে টিম্পানোপ্লাস্টি করে থাকে। তাদের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে তারা ২০০ জনেরও বেশি রোগীর অপারেশন সম্পন্ন করেছে। এছাড়া সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প (SSP)-এর আওতায় কোনো কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খরচ ১০,০০০ টাকার নিচে নেমে আসে। তবে সেক্ষেত্রে দরিদ্রতার শংসাপত্র প্রয়োজন হয়।

অনেক রোগীই জানেন না, যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে টিম্পানোপ্লাস্টি করা হয় খুবই কম খরচে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশন ফি নেয়া হয় মাত্র ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা। তবে সেখানে ভর্তি হতে ২-৩ মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এ (BSMMU) একই অপারেশনের জন্য খরচ পড়ে ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা। সেখানে অপেক্ষার সময় তুলনামূলক কম।

আমার নিজের একজন আত্মীয় গত বছর যশোরে এইচ আর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিম্পানোপ্লাস্টি করান। সেখানে প্যাকেজ মূল্য ছিল ৩২,০০০ টাকা, কিন্তু তিনি আলাদাভাবে ওষুধ কিনতে গিয়ে আরও ৪,০০০ টাকা খরচ করেন। এছাড়া অপারেশনের পর ফলো-আপ ভিজিটের খরচ বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রতিটি ফলো-আপে গড়ে ৫০০-৮০০ টাকা দিতে হয়। একজন রোগীকে সাধারণত ৩-৪ বার ফলো-আপে যেতে হয়। তাই মোট খরচ বের করার সময় এই টাকাও যোগ করুন।

অপারেশন পরবর্তী সতর্কতা ও খরচ

অপারেশন শেষে কানের যত্ন নেয়া খুব জরুরি। ডাক্তাররা বলেন, প্রথম ২ সপ্তাহ কানে পানি ঢুকানো যাবে না। কান ঢেকে রাখার জন্য হেড ব্যান্ড ব্যবহার করতে হয়, যার দাম ২০০-৫০০ টাকা। আর যদি সংক্রমণ ধরা পড়ে, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য অতিরিক্ত ১,০০০-২,০০০ টাকা খরচ হতে পারে। আমি এক রোগীর কাছ থেকে শুনেছি, তার অপারেশনের এক মাস পর কানে ব্যথা শুরু হয়। পরে জানা যায়, তিনি হাত দিয়ে কান খোঁচাচ্ছিলেন। এতে খরচ বেড়ে গিয়েছিল আরও ৩,০০০ টাকা।

অনেক হাসপাতালে পোস্ট-অপারেটিভ চেকআপ প্রথম ফ্রি থাকে, কিন্তু দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের জন্য ফি ধরতে হয়। যেমন ইবনে সিনা হাসপাতালে প্রথম চেকআপ ফ্রি, কিন্তু দ্বিতীয়বার থেকে ৬০০ টাকা নেয়া হয়। তাই এ ব্যাপারেও আগে জেনে নেয়া ভালো। আমি পরামর্শ দেব, যে হাসপাতালে অপারেশন করবেন, সেখান থেকে লিখিতভাবে সব খরচের তালিকা নিয়ে নিন। এতে ভবিষ্যতে কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না।

অপারেশনের সাফল্যের হার নিয়েও দু-একটি কথা বলতে চাই। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে টিম্পানোপ্লাস্টির সাফল্যের হার প্রায় ৮৫% থেকে ৯০%। তবে ধূমপান বা ডায়াবেটিস থাকলে এই হার কমে যায়। তাই অপারেশনের অন্তত ২ সপ্তাহ আগে ধূমপান বন্ধ করার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। এতে শুধু সাফল্যের হার বাড়ে না, পুনরায় সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকিও কমে।

শেষ কথা

আমার এই বিশ্লেষণের শেষ পর্যায়ে এসে আমি বলতে চাই, কানের পর্দা অপারেশনের জন্য হাত-পা গুটিয়ে বসে না থেকে বরং বিকল্পগুলো খুঁজে বের করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলি অনেক সময় কম খরচে ভালো সার্ভিস দেয়। যেমন রাজশাহী, চট্টগ্রাম বা সিলেটের হাসপাতালে একই অপারেশনের খরচ ঢাকার থেকে ১৫-২০% কম হয়। তবে সেখানে অভিজ্ঞ ডাক্তার না-ও থাকতে পারেন। সেজন্য আগে ডাক্তারদের যোগ্যতা যাচাই করে নিন।

সবশেষে, আমার বিশ্বাস, আপনার পরিবারের একজন সদস্যের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন। কিন্তু সঠিক তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে আপনি সঠিক পথ বেছে নিতে পারবেন। যদি আরও বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে কাছের কোনো ইএনটি বিশেষজ্ঞের সাথে সরাসরি কথা বলুন। তিনি আপনার অবস্থা বুঝে সবচেয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবেন।