পেটের সমস্যা নিয়ে যখন ডাক্তার বলেন, “আপনার ইআরসিপি করতে হবে”, তখন মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খায় খরচটা কেমন হবে? শুধু চিকিৎসা নয়, বাজেটের কথাও মাথায় আসে। কিছুদিন আগে আমি নিজে এই তথ্য খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা দাম আর বাস্তবের দামের মধ্যে ফারাকটা অনেক। কেউ বলে ১৫ হাজার, কেউ বলে ২৫ হাজার। আসল চিত্রটা কী? চলুন, সরাসরি বিভিন্ন সেন্টার ও হাসপাতালের বর্তমান ডেটা থেকে জেনে নেওয়া যাক।

ইআরসিপি কী এবং কেন এই পরীক্ষা জরুরি?

ইআরসিপি শব্দটা শুনতে জটিল লাগলেও এর কাজটা খুব সুনির্দিষ্ট। এটি মূলত পিত্তনালি ও অগ্ন্যাশয়ের নালিতে সমস্যা খুঁজে বের করার একটি পদ্ধতি। এন্ডোস্কোপি আর এক্স-রে একসঙ্গে ব্যবহার করে দেখা হয়, কোথাও পাথর, টিউমার বা ব্লকেজ আছে কিনা।

আমার একজন পরিচিতের অভিজ্ঞতা বলি তার জন্ডিস হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল। ডাক্তার প্রথমে আল্ট্রাসোনোগ্রাম করালেন। সেখানে কিছু স্পষ্ট না হওয়ায় ইআরসিপির পরামর্শ দিলেন। দেখা গেল, পিত্তনালিতে ছোট পাথর আটকে ছিল। শুধু পাথর বের করাই নয়, প্রয়োজনে স্টেন্টও বসানো যায় এই পদ্ধতিতে।

হ্যাঁ, এটিকে কেবল ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা ভাবলে ভুল হবে। এটি থেরাপিউটিকও বটে। পিত্তথলির পাথর, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, এমনকি ক্যানসারের সন্দেহেও এটি করা হয়। তাই খরচ নিয়ে ভাবার আগে বোঝা জরুরি, কেন এটি অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনার যদি জন্ডিস, পেটের উপরের অংশে তীব্র ব্যথা বা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকে, তবে ইআরসিপি করার আগে অন্য সাধারণ পরীক্ষাগুলো (যেমন লিভার ফাংশন টেস্ট ও আল্ট্রাসাউন্ড) করিয়ে নিন এতে সময় ও অর্থ দুই-ই বাঁচতে পারে।

ঢাকার প্রধান হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ইআরসিপির খরচ

আমি কিছুদিন আগে বড় বড় হাসপাতাল ও সেন্টারের ফোন করেছিলাম। কী পেলাম? চলুন, সেটি নিচের টেবিলে দেখে নেওয়া যাক খরচগুলো জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সময়ের:

প্রতিষ্ঠানের নাম ইআরসিপি খরচ (টাকায়) স্টেন্ট ব্যবহারের অতিরিক্ত খরচ রোগীভর্তি থাকলে অতিরিক্ত
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ১০,০০০–২২,০০০ ১০,০০০–১৫,০০০ মূল্যের মধ্যে
সিটি হাসপাতাল (ধানমন্ডি) ২৫,০০০–৩৫,০০০ ১৫,০০০–২০,০০০ ৩,০০০–৫,০০০
ইবনে সিনা হাসপাতাল (মিরপুর) ২৭,০০০–৪০,০০০ ২০,০০০–২৫,০০০ ৫,০০০–৭,০০০
পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ২২,০০০–৩৬,০০০ ১২,০০০–১৮,০০০ মূল্যের মধ্যে
ইউনাইটেড হাসপাতাল (গুলশান) ২৬,০০০–৪২,০০০ ১৮,০০০–২২,০০০ ৪,০০০–৬,০০০
এভারকেয়ার হাসপাতাল (ধানমন্ডি) ২৮,০০০–৪৫,০০০ ২০,০০০–২৮,০০০ ৫,০০০–৮,০০০

বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় ইআরসিপির খরচ ১৫-২০ হাজার। আমি একমত নই, কারণ বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন। উপরের টেবিল থেকে বোঝা যাচ্ছে, সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি হাসপাতালে দাম প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু মানের দিক থেকে বেসরকারিগুলোতে অপেক্ষার সময় কম এবং সুযোগ-সুবিধা বেশি।

কার্যকরী পরামর্শঃ যদি আপনার বাজেট সীমিত হয়, তবে বিএসএমএমইউ বা পপুলারে আগে যোগাযোগ করুন সেখানে ইন-পেশেন্ট থাকলে বাড়তি খরচ কম। চিকিৎসকের রেফারেল নিয়ে যান, এতে প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।

সরকারি বনাম বেসরকারি হাসপাতালের খরচ: কেন ফারাক?

অবাক লাগলো একই পরীক্ষা, অথচ দামের পার্থক্য ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কেন এত ফারাক? আমি কয়েকটি কারণ খুঁজলাম।

প্রথমত, যন্ত্রপাতির গুণগত মান। সরকারি হাসপাতালে সাধারণত সিঙ্গেল-প্লেন ওয়্যার ইকুইপমেন্ট ব্যবহার হয়। বেসরকারি হাসপাতালে তা ডুয়াল-প্লেন, যা ছবি আরও স্পষ্ট করে। আচ্ছা ধরুন, আপনার পিত্তনালির নালি খুব সরু ডুয়াল-প্লেন মেশিনে তা আরও সহজে দেখা যায়। কিন্তু দাম বাড়ে।

দ্বিতীয়ত, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ফি। একজন সিনিয়র গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বেসরকারি হাসপাতালে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা নেন। সরকারি হাসপাতালে এই ফি অনেক কম, প্রায় ৫০০-১০০০ টাকা। যাই হোক, সেখানে অপেক্ষার তালিকা লম্বা কখনও এক মাস।

তৃতীয়ত, স্টেন্টের খরচ। এখানে দুই ধরনের স্টেন্ট থাকে প্লাস্টিক ও মেটাল। প্লাস্টিক স্টেন্ট ২-৩ মাস স্থায়ী হয়, দাম ১০-১৫ হাজার। মেটাল স্টেন্ট স্থায়ী, কিন্তু দাম ২৫-৪০ হাজার। আমার কাছে মনে হয়, অনেকে এই পার্থক্যটা বোঝেন না বলে চিকিৎসকই সিদ্ধান্ত নেন।

কার্যকরী পরামর্শঃ ইআরসিপি করার আগে জেনে নিন আপনার জন্য প্লাস্টিক না মেটাল স্টেন্ট প্রয়োজন এটি খরচের বড় অংশ নির্ধারণ করবে। চিকিৎসককে সরাসরি জিজ্ঞাসা করুন।

শুধু পরীক্ষাই নয়: অন্যান্য লুকোনো খরচ

সততার সাথে বলছি, ইআরসিপির খরচ নিয়ে কথা বলতে গেলে শুধু পরীক্ষার ফিই নয়, আশপাশের অনেক খরচও হিসাবে আনতে হয়। আমি পপুলার ও ইউনাইটেডের থেকে যে তথ্য পেয়েছি, তাতে দেখা গেছে ভর্তি ফি, অ্যানেসথেসিয়া ফি, প্যাথলজি টেস্ট, এবং ঔষধ এগুলো যোগ করলে মোট খরচ আরও ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা বেড়ে যায়।

ধরুন, রোগীকে ইআরসিপির জন্য সাধারণ অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়। অ্যানেসথেসিয়া ফি আলাদা এটি ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা। এরপর পোস্ট-প্রসিডিউরে রক্ত পরীক্ষা করা হয় সেটা আরও ১,০০০-২,০০০। ঠিক এটাই বাস্তবতা।

থাক, মূল কথায় আসি। অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিজ্ঞাপনে লেখা থাকে ‘ইআরসিপি ১৫,০০০ টাকা মাত্র’। কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শেষ বিল ২৫-৩০ হাজার ছুঁয়ে যায়। কারণ তারা প্যাকেজে সবকিছু রাখে না। তাই জিজ্ঞাসা করুন: “এই দামে কী কী আছে?”

কার্যকরী পরামর্শঃ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে একটি চেকলিস্ট তৈরি করুন অ্যানেসথেসিয়া ফি, কনসালটেশন ফি, ল্যাব টেস্ট ফি, স্টেন্ট ফি এগুলো আলাদাভাবে জেনে নিন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন। ১০ মিনিটের কাজ, কিন্তু হাজার টাকা বাঁচবে।

গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচলিত ভুল তথ্য

ইন্টারনেট ঘেঁটে আমি দেখলাম, অনেক ব্লগ ও ফোরামে লেখা ‘ইআরসিপি খরচ সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা’। তো আমি নিজে ফোন করে যাচাই করলাম ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের ডেটা। ফলাফল ভিন্ন। আসলে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষা ৪০,০০০ টাকাও ছুঁতে পারে।

আমি যে কথাটা কেউ বলে না: বেশিরভাগ তথ্যই পুরনো (২০২৪-২৫ সালের) এবং স্টেন্টের খরচ বাড়েনি বলে ধরে নেওয়া হয়। অথচ ২০২৬ সালে মেডিকেল ইকুইপমেন্টের আমদানি শুল্ক বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে স্টেন্ট ও যন্ত্রপাতির দামে। সেটা কেউ হিসাবে নেয় না।

এই ভুল তথ্যের কারণে অনেক রোগী বাজেট ভুল করে ফেলেন। উদাহরণ দিই একজন আত্মীয় জানেন যে ইআরসিপি কম, ২০ হাজারেই হবে। কিন্তু এভারকেয়ারে শেষ বিল আসে ৪৫ হাজার। তখন হিমশিম খেতে হয়। তাই নির্ভর করুন কেবলমাত্র হাসপাতালের অফিশিয়াল সূত্র বা সর্বশেষ ফোনালাপের ওপর।

কার্যকরী পরামর্শঃ গুগলে সার্চ করলেই যে পাঁচটি তথ্য আগে আসে, সেগুলো বিশ্বাস করবেন না। পরিবর্তে, যে হাসপাতালে করাতে চান, সরাসরি তাদের হটলাইনে ফোন করুন। আমি সহজ নিয়মটা মেনে চলি: ‘কথা বলে নিন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন’ আপনিও পরের ইআরসিপির সময় এটি করুন।

খরচ কমানোর কার্যকরী উপায়: বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে

আমি আগেই বলেছি, ইআরসিপির খরচ শুধু একবারের ব্যয় নয়। তবে কিছু কৌশল আছে যা মানলে এই খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। প্রথমত, স্বাস্থ্যবিমা ব্যবহার করুন। অনেক বেসরকারি বিমা কোম্পানি ইআরসিপি কভার করে। তবে আগে শর্ত জেনে নিন কোন ধরণের স্টেন্ট, কতদিন ভর্তি থাকতে হবে ইত্যাদি।

দ্বিতীয়ত, সরকারি হাসপাতালে অপেক্ষার তালিকা বড়, কিন্তু সেই সময় দিয়ে অন্য পরীক্ষাগুলো সেরে ফেলতে পারেন। তৃতীয়ত, কিছু হাসপাতালের ‘ডে-কেয়ার প্রোগ্রাম’ আছে এখানে রোগী রাত না কাটিয়েই বাড়ি ফিরতে পারেন। এতে ভর্তি ও অ্যানেসথেসিয়ার ফি কমে যায়।

আমি ব্যক্তিগতভাবে পপুলার হাসপাতালের ডে-কেয়ারটিকে আরও এগিয়ে রাখব, মূলত কারণ তাদের খরচ তুলনামূলক কম এবং মান ভালো। কিন্তু সততার সাথে বলছি, যাদের জটিলতা আছে (যেমন লিভার সিরোসিস), তাদের জন্য ডে-কেয়ার উপযুক্ত নয়। তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কার্যকরী পরামর্শঃ আজই আপনার স্বাস্থ্যবিমার ডকুমেন্ট খুঁজে দেখুন ইআরসিপি কভার কি না। না থাকলে, আগামী মাসে একটি কিনে ফেলুন। এটি ৩০ মিনিটের কাজ, কিন্তু অপ্রত্যাশিত খরচ থেকে রক্ষা করবে।

বাংলাদেশে ইআরসিপি খরচ: বর্তমান বাজার বিশ্লেষণ

২০২৫ সালের শেষ দিকে দাঁড়িয়ে, বাংলাদেশে ইআরসিপির খরচ কিছুটা বেড়েছে। সরকারি হাসপাতালে বেসিক প্যাকেজ (সতর্ক নজরদারি, সাধারণ স্টেন্ট) এখন ১২,৫০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে পড়ে। বিএসএমএমইউতে ২০২৫ সালের তুলনায় ৮% বৃদ্ধি পেয়েছে মূলত মুদ্রাস্ফীতি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের দাম বাড়ার কারণে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে খরচ দাঁড়িয়েছে ৩০,০০০ থেকে ৫৫,০০০ টাকা। ল্যাবএইড, পপুলার, স্কয়ার হাসপাতালে দাম প্রায় একই রকম, তবে কিছু অভিজাত হাসপাতাল যেমন ইউনাইটেড হাসপাতালে খরচ ৬০,০০০ টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

একটু গভীরে গেলে দেখা যায়, স্টেন্টের দামই এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। দেশি স্টেন্ট (যেমন ইপিক মেডিকেলের) দাম ৮,০০০-১২,০০০ টাকা, কিন্তু বিদেশি স্টেন্টের (বোস্টন সায়েন্টিফিক, কুক মেডিকেল) দাম ২৫,০০০-৪০,০০০ টাকা। বর্তমানে বাজারে ৬০% ক্ষেত্রে বিদেশি স্টেন্ট ব্যবহার করা হয়, কারণ চিকিৎসকরা এগুলোর মান বেশি বিশ্বাস করেন। তবে সরকারি হাসপাতালে প্রায়ই দেশি স্টেন্ট দেওয়া হয় এতে খরচ কম হয় কিন্তু গুণগত মান নিয়ে কিছু রোগীর অভিযোগ রয়েছে।

উপসংহারে বলতে গেলে, ইআরসিপির খরচ কম রাখতে চাইলে দেশি স্টেন্ট বেছে নিন, কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ কিছু জটিল ক্ষেত্রে (যেমন পিত্তনালীর সংকীর্ণতা) বিদেশি স্টেন্টই জরুরি। এছাড়া, হাসপাতালের ‘প্যাকেজ ডিল’ খোঁজ করুন অনেক জায়গায় ভর্তি, অপারেশন ও ফলোআপ মিলিয়ে ৩৫,০০০-৪৫,০০০ টাকায় সম্পন্ন হয়।

ইআরসিপি পরবর্তী খরচ ও সতর্কতা

অনেকেই মনে করেন ইআরসিপির পর খরচ শেষ। কিন্তু বাস্তবে ফলোআপ চিকিৎসা ও জটিলতা ব্যবস্থাপনায় আরও কিছু টাকা দরকার। সাধারণত, অপারেশনের ১ সপ্তাহ পর প্রথম ফলোআপ করতে হয় এতে ২,০০০-৩,৫০০ টাকা লাগে (রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড ও ডাক্তার ফি মিলিয়ে)। তারপর ১ মাস পর দ্বিতীয় ফলোআপ, যেখানে খরচ ১,৫০০-২,৫০০ টাকা। মোট ফলোআপ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৫,০০০-৭,০০০ টাকা।

এছাড়া, জটিলতার ঝুঁকিও আছে। ৫-১০% রোগীর মধ্যে পোস্ট-ইআরসিপি প্যানক্রিয়াটাইটিস দেখা দেয় এতে আরও ৫-৭ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়, খরচ বাড়ে ২০,০০০-৩০,০০০ টাকা। রক্তপাতের ঝুঁকি ২-৫%, যার জন্য এন্ডোস্কোপিক চিকিৎসা প্রয়োজন এতে ১৫,০০০-২৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত লাগে। তাই আমার মতে, ইআরসিপির জন্য বাজেট করার সময় মূল খরচের সাথে ২০,০০০-৩০,০০০ টাকা জরুরি তহবিল রাখুন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমার এক বন্ধুর ক্ষেত্রে ইআরসিপির পর ২ দিন জ্বর ও পেটে ব্যথা হয়েছিল তাকে জরুরি ভিত্তিতে আরও ৩ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। ভাগ্য ভালো ছিল যে তার বিমা ছিল, কিন্তু বিমা সব জটিলতা কভার করে না। তাই বিমা কিনার সময় ‘পোস্ট-প্রসিডিউর জটিলতা’ কভারেজ আছে কিনা দেখে নিন।

শেষ কথা

ইআরসিপি বাংলাদেশে এখন তুলনামূলক সহজলভ্য, কিন্তু খরচের বাস্তবতা বোঝা জরুরি। সঠিক প্রস্তুতি ও জ্ঞান নিয়ে এগোলে আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব। আমি আশা করি, এই নিবন্ধটি পড়ে আপনি খরচের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেয়েছেন।

মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যই সবচেয়ে বড় সম্পদ। ইআরসিপি আপনার জীবন বাঁচাতে পারে, তাই খরচের ভয়ে পিছিয়ে যাবেন না। বরং আগে থেকে পরিকল্পনা করুন, বিমা কিনুন, সরকারি হাসপাতালের সুযোগ নিন। শেষ পর্যন্ত, সঠিক তথ্য ও সতর্কতাই আপনাকে সুরক্ষিত রাখবে।