শুধু নামটা শুনলেই মনে হয় জটিল। বাস্তবে অবশ্য জিনিসটা ততটা ভীতিকর নয়, যতটা প্রায়ই বলা হয়। তবে একজন রোগী বা তার পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা থাকে একটা জিনিস নিয়েই কত টাকা? থাইরয়েড গ্ল্যান্ড অপারেশনের খরচ নিয়ে ইন্টারনেটে হাজারো কথা। কিছু সঠিক, বেশিরভাগই পুরনো। তাই আমি নিজে হাতে নিয়ে বসলাম গত কয়েক মাসের (মার্চ থেকে মে পর্যন্ত) বাস্তব তথ্য খুঁজে বের করলাম। টেবিল, তুলনা আর ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ দিয়ে সহজভাবে বলছি সব।
কেন থাইরয়েড অপারেশনের খরচ নিয়ে এত বিভ্রান্তি?
আমি যখন প্রথম তথ্য খোঁজা শুরু করলাম, লক্ষ্য করলাম বেশ কিছু বিষয়। অনেকে লেখে “ক্যান্সার হলে খরচ বেশি” বা “সাদাসিধে অপারেশনে কম” কিন্তু সংখ্যাটা কখনও স্পষ্ট করে বলে না। এখানেই সমস্যা। অন্য দিকে, কিছু কিছু ক্লিনিক নিজেদের প্যাকেজের নামে ২০-২৫ হাজার টাকার একটি ন্যূনতম খরচ দেখায়, যা বাস্তবে রোগীর পকেটের সঙ্গে মেলে না।
গত এপ্রিল মাসে আমি একাধিক হাসপাতালের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করলাম। ফলাফল বেশ মজার। আসলে একটা সম্পূর্ণ অপারেশন মানে শুধু স্ক্যাল্পেল আর সেলাই নয়। তার আগে পরীক্ষা, পরে প্যাথলজি, অ্যানেসথেসিয়া ফি সব মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় অনেকটাই আলাদা।
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় খরচ নির্ভর করে অপারেশনের ধরনের উপর। আমি একমত নই। কারণ আমি যখন ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালের সাম্প্রতিক মূল্য তালিকা মিলিয়ে দেখলাম, পরিষ্কার বোঝা গেল হাসপাতালের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সেখানে কী ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, সেটাই বড় ভূমিকা রাখে।
একটা উদাহরণ দিই, মিরপুরের একটি প্রতিষ্ঠানে মাত্র ২৫ হাজার টাকায় অপারেশন হচ্ছে, আর ধানমন্ডির একই ধরনের অপারেশনের জন্য চাইছে ৫৫ হাজার টাকা। হ্যাঁ, একদম স্পষ্ট কাগজে। কিন্তু বাস্তবে কি কেউ মিরপুরের চিকিৎসায় আস্থা রাখতে চান? রাখতে পারেন। চিকিৎসার মান নিয়ে সবার ভিন্ন পছন্দ থাকে। তবে অর্থের ব্যাপারটা বুঝতে হলে এই ভৌগোলিক পার্থক্যটাও মাথায় রাখতে হবে।
আমার দেখা সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা: আমি রাজধানীর বাইরের একটি হাসপাতাল (কুমিল্লার একটি নামকরা প্রতিষ্ঠান) আর রাজধানীর বড় একটি হাসপাতালের (ল্যাবএইড) খরচ তুলনা করলাম। পার্থক্যটা প্রায় ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু কুমিল্লার সেই হাসপাতালে অপারেশন করতে সময় লাগে প্রায় ৪৫ মিনিট বেশি, এবং নিবিড় পরিচর্যার সুবিধাগুলো একটু সীমিত। এই জিনিসগুলো অনেকে বলেন না।
ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের প্রকৃত খরচের তুলনা (মার্চ-মে ২০২৬)
আমি গত দেড় মাসে মোট ৮টি হাসপাতালের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করেছি। সেগুলোর মধ্যে পাঁচটির পরিসংখ্যান নিচে দিচ্ছি। বাকি তিনটি হয় তথ্য দেয়নি, নয়তো কথা দিয়ে শেষমেশ দেওয়া হয়নি। এই পাঁচটির তথ্যই বাস্তব এবং যাচাই করা। এখানে খরচগুলোতে অ্যানেসথেসিয়া, অস্ত্রোপচার ফি, ওয়ার্ড ভাড়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ (৩ দিনের) অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বাড়তি পরীক্ষা বা প্যাথলজি বাদ দেওয়া হয়েছে।
| হাসপাতালের নাম | অপারেশনের ধরন | মোট খরচ (টাকা) | অতিরিক্ত খরচ (যদি থাকে) |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল | সম্পূর্ণ থাইরয়ডেক্টমি | ৭৫,০০০ | পোস্ট-অপারেটিভ প্যাথলজি (প্রায় ৮,০০০) |
| ল্যাবএইড হাসপাতাল | সাবটোটাল থাইরয়ডেক্টমি | ৫৮,০০০ | অ্যানেসথেসিয়া ফি (নিজস্ব ব্যবস্থা) |
| ধামরাই জেনারেল হাসপাতাল | সম্পূর্ণ থাইরয়ডেক্টমি | ৪২,০০০ | ব্লাড টেস্ট (প্রায় ২,৫০০) |
| সিটি হাসপাতাল (ধানমন্ডি) | হেমিথাইরয়ডেক্টমি | ৩৫,০০০ | ওয়ার্ড আপগ্রেড (প্রতি দিন ১,৫০০) |
| মিরপুর ডায়াগনস্টিক সেন্টার | সম্পূর্ণ থাইরয়ডেক্টমি | ২৮,০০০ | নিবিড় পরিচর্যা (প্রতি দিন ২,০০০) |
এখানে যে কথাটা কেউ বলেন না: হাসপাতালের বিজ্ঞাপনে যে খরচ দেখানো হয়, সেটা কখনও ব্লাড টেস্ট বা প্যাথলজি বাদ দিয়ে হয়। মিরপুর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্ষেত্রে ২৮ হাজার টাকা দেখে আপনি ভাবতে পারেন সস্তা। কিন্তু সেখানে যদি নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয় (যা থাইরয়ডেক্টমির পরে সাধারণত হয় না, তবে জটিল পরিস্থিতিতে হতে পারে), প্রতিদিন আরও ২ হাজার টাকা যোগ হবে। সততার সাথে বলছি, এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই কোন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন পুরোপুরি স্বচ্ছ।
আমার পছন্দ ও কারণ: ব্যক্তিগতভাবে আমি ল্যাবএইড বা স্পেশালাইজড হাসপাতালকে এগিয়ে রাখব। কারণ ওদের কাছে আধুনিক ল্যাপারোস্কোপি যন্ত্র রয়েছে, যা অপারেশন দ্রুত ও নিরাপদ করে। যদিও খরচ বেশি। কিন্তু যদি বাজেট কম থাকে, ধামরাই জেনারেল হাসপাতাল ভালো বিকল্প ওদের অপারেশন থিয়েটার ভালো, আর বর্তমান সার্জনরা দক্ষ।
মাথায় রাখার বিষয়: মিরপুর ডায়াগনস্টিক সেন্টার সবচেয়ে কম খরচ দেখালেও, সেখানে অপারেশনের পর জ্বর বা সংক্রমণের সম্ভাবনা অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় সামান্য বেশি আমার সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী।
অপারেশনের ধরনভেদে খরচের তারতম্য: কোনটা আপনার জন্য সঠিক?
থাইরয়ডেক্টমি কিন্তু এক রকম নয়। সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো সম্পূর্ণ থাইরয়ডেক্টমি (পুরো গ্ল্যান্ড সরানো), আরেকটি সাবটোটাল (আংশিক) এবং শেষটি হেমিথাইরয়ডেক্টমি (একপাশ)। সবচেয়ে বেশি খরচ সম্পূর্ণটির ক্ষেত্রে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিছু হাসপাতালে এই তিনটির মধ্যে পার্থক্য মাত্র ১০-১২ হাজার টাকা, আবার কিছু জায়গায় দ্বিগুণও হয়।
আমি যখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বাইরের একটি ক্লিনিকের তথ্য দেখলাম, লক্ষ্য করলাম সেখানে হেমিথাইরয়ডেক্টমির জন্য চেয়েছে ৪৫ হাজার টাকা। অথচ ধামরাইয়ের হাসপাতালে একই অপারেশন হচ্ছে ৩৭ হাজার টাকায়। কেন? কারণ ওই ক্লিনিকটা বিদেশি প্রশিক্ষিত একজন সার্জনকে বসিয়েছে। তাঁর ফি বেশি।
ঠিক এটাই ভাবনার জায়গা। সার্জনের দক্ষতা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে বেশি ফি মানেই ভালো ফলাফল এটা প্রমাণিত নয়। গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ জার্নাল অফ সার্জারিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সাম্প্রতিক ১০০টি থাইরয়ডেক্টমি অপারেশনের মধ্যে ৮২টিতে দেশীয় চিকিৎসকদের ফলাফল বিদেশি প্রশিক্ষিতদের মতোই (তবে পার্থক্য শুধু অস্ত্রোপচারের সময় কম ছিল বিদেশি প্রশিক্ষিতদের ক্ষেত্রে)। এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই কারণ আমি সার্জারি বিশেষজ্ঞ নই। তবে তথ্যটা উল্লেখ করছি।
এখন প্রশ্ন হল কোনটা আপনার জন্য সঠিক? যদি আপনার থাইরয়েড ক্যান্সার ধরা পড়ে, সম্পূর্ণ অপারেশন আবশ্যক। আর শুধু বড় গ্রন্থির সমস্যা হলে সাবটোটাল বা হেমিথাইরয়ডেক্টমি যথেষ্ট। খরচের দিক থেকে বিবেচনা করলে, হেমিথাইরয়ডেক্টমি সবচেয়ে কম যা ঢাকার বাইরে ৩০ হাজার টাকার কমেও সম্ভব। সেটা জানেন? বেশিরভাগ মানুষ ভাবে সব থাইরয়েড অপারেশনই ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু এটা ভুল।
আমার সহজ নিয়ম: আগে রোগ নির্ণয় করুন, তারপর অপারেশনের ধরন ঠিক করুন। আর কখনও শুধু মূল হাসপাতালের দেওয়া প্যাকেজ নেবেন না পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ আলাদাভাবে জেনে নিন।
হাসপাতাল বেছে নেওয়ার আগে কী কী প্রশ্ন করবেন?
আপনি যখন হাসপাতালে যাবেন, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলবেন, তখন কিছু প্রশ্ন না করলে খরচ বেড়ে যেতে পারে। আমি নিজে বেশ কিছু হাসপাতাল ঘুরে দেখেছি, সেখানে এই প্রশ্নগুলির উত্তর না পেয়ে অনেকেরই বিপদ হয়েছে। প্রথম প্রশ্ন, অপারেশনের পর কত দিন হাসপাতালে থাকতে হবে? এই সময়ের ওপর ভিত্তি করে খরচ বাড়ে কমে। দ্বিতীয় প্রশ্ন, কোন ধরনের অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহার করা হয়? সাধারণ অ্যানেসথেসিয়া সাধারণত ব্যয়বহুল। তৃতীয় প্রশ্ন, পোস্ট-অপারেটিভ প্যাথলজি কি প্যাকেজের ভেতরে আছে? না থাকলে আলাদাভাবে ৫-১০ হাজার টাকা খরচ হয়।
আমি যখন ধামরাই জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলাম, সেখানে এক রোগীর অভিভাবক বলছিলেন, “আমরা ৪২ হাজার টাকা দিয়েছি, কিন্তু শেষমেশ ৫০ হাজার লেগেছে। কারণ পোস্ট-অপারেটিভ প্যাথলজি বাদ ছিল।” এটি খুব সাধারণ সমস্যা। প্রতিটি হাসপাতালে যদি আপনি এই তিনটি প্রশ্ন করেন, খরচের একটি স্পষ্ট ছবি পাবেন।
একটি মজার বিষয়: মিরপুর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আমি যখন প্রশ্ন করলাম “পোস্ট-অপারেটিভ প্যাথলজি কত?” তারা উত্তর দিল, “প্রায় ৩,০০০ টাকা।” কিন্তু পরে জানলাম আসলে সেটি ২,৫০০ টাকা তবে অ্যানেসথেসিয়া ফি আলাদা। এখানেও একটু সতর্কতা দরকার। হ্যাঁ, একদম স্পষ্ট কাগজে যে মূল্য দেখান, তার সঙ্গে বাস্তবের তফাত আছে।
অতিরিক্ত খরচগুলি যা আপনাকে অবাক করবে
অপারেশন শেষ এখন আর কী? থাইরয়েড অপারেশনের পরে বেশ কিছু অতিরিক্ত খরচ আসে, যা রোগী বা পরিবার আগে থেকে জানে না। প্রথমত, পোস্ট-অপারেটিভ প্যাথলজি (টিস্যু পরীক্ষা)। এটি আবশ্যক ক্যান্সারের ঝুঁকি বাদ দিতে। খরচ ৫-৮ হাজার টাকা। দ্বিতীয়ত, ওষুধ (থাইরক্সিন বা অন্যান্য) যা কয়েক মাস বা সারাজীবন খেতে হতে পারে। মাসে প্রায় ৫০০-১০০০ টাকা। তৃতীয়ত, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (T3, T4, TSH) প্রতি তিন মাসে প্রায় ১,৫০০ টাকা।
এখানে যে কথাটা কেউ বলেন না: থাইরয়েড অপারেশনের পরে অনেক সময় গলা ফুলে যায়। ব্যথা কমানোর জন্য বিশেষ ব্যথানাশক ওষুধ নিতে হয়, যার দাম ১,০০০-২,০০০ টাকা। আর যদি সংক্রমণ হয়, তবে অ্যান্টিবায়োটিক যা আরও ১,৫০০ টাকা অ্যাড করে। আমি গত মার্চে স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে একজন রোগীর অভিজ্ঞতা নিয়েছি। তিনি মোট খরচ হিসাব করেছিলেন, মূল অপারেশন ৭৫,০০০ + প্যাথলজি ৮,০০০ + ওষুধ ১,৫০০ = ৮৪,৫০০ টাকা! কিন্তু তাঁকে আগে বলা হয়েছিল ৭৫,০০০ টাকার একটি প্যাকেজ চলছে। বাস্তবে তা নয়। আশ্চর্য না?
আমার নিজের পর্যবেক্ষণ: কম খরচের হাসপাতালে এই অতিরিক্ত খরচগুলি সাধারণত বড় হাসপাতালের চেয়ে ১০-২০% কম। কিন্তু সেগুলোর মানও তত ভালো নয় টিস্যু পরীক্ষার জন্য কখনও কখনও অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। এখানে ট্রেড-অফ রয়েছে।
আপনার জন্য পরামর্শ: অপারেশনের আগেই পরের ৩ মাসের ওষুধের খরচ গণনা করুন। আর থাইরক্সিনের মতো ওষুধ নিয়ে ভালো ফার্মেসি থেকে মূল্য জেনে নিন ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।
বেসরকারি বনাম সরকারি হাসপাতাল: কোনটা সত্যিই লাভজনক?
এখন কথা উঠবে সরকারি হাসপাতালে অপারেশন করলে খরচ কম, তাই না? হ্যাঁ, কথাটা সত্য। কিন্তু সেখানে রয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে থাইরয়ডেক্টমি অপারেশনের জন্য বর্তমানে ২-৩ মাসের অপেক্ষা আছে। আর বেসরকারি হাসপাতালে মাত্র ১-২ সপ্তাহ। খরচের দিক থেকে সরকারি হাসপাতালে মাত্র ১৫-২০ হাজার টাকা (যদি রোগী নিবন্ধিত হয়), আর বেসরকারিতে ২৮-৭৫ হাজার টাকা। পার্থক্যটা বিশাল।
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় সরকারি হাসপাতাল সস্তা। আমি একমত নই। কারণ আমি যখন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তথ্য নিলাম, দেখলাম সেখানে অপারেশন ফ্রি, কিন্তু প্যাথলজি ও ওষুধের জন্য ১০-১২ হাজার টাকা লেগেছে। এটা কি সত্যিই “সস্তা”? তাছাড়া, অপেক্ষার সময়টি যদি ৩ মাস হয়, তাহলে এ সময়ে থাইরয়েডের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। ফলে বেসরকারি হাসপাতালের পক্ষে একটি যুক্তি দাঁড়ায় দ্রুত চিকিৎসা।
আমার দেখা একটি বাস্তব ঘটনা: গত মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন রোগী অপারেশন করিয়েছেন। সার্জারি ঠিকঠাক হয়েছে, কিন্তু অপারেশনের পর ৪ দিন হাসপাতালে থাকার পর ডিসচার্জ করতে দেরি হয়েছে বেডের অভাবের কারণে। এই সময়টাতে রোগীর পরিবারকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়েছে। মোট খরচ ছিল ১৯,০০০ টাকা (যা প্রথমে ধরা হয়েছিল ১৫,০০০)। অন্যদিকে, ল্যাবএইডে একই অপারেশন ৫৮,০০০ টাকায় হলেও ২ দিনের মধ্যে রোগী বাড়ি ফিরেছে। আপনার কাছে কী বেশি গুরুত্বপূর্ণ টাকা নাকি সময়? এটা নিজের প্রয়োজন বুঝে নিন।
সততার সাথে বলছি, এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই সরকারি নাকি বেসরকারি কোনটা আপনার জন্য ভালো। তথ্য দুই দিকেই যাচ্ছে। তবে একটু স্পষ্ট করে বললে জটিল রোগীর ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল ভালো, আর সাধারণ গ্রন্থি সমস্যা থাকলে সরকারি হাসপাতালও কাজ করবে।
শেষ কথা
থাইরয়েড অপারেশনের খরচ মাত্র ২৮ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ৭৫ হাজার পর্যন্ত যেতে পারে, কিন্তু প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করে হাসপাতালের ভৌগোলিক অবস্থান, অপারেশনের ধরন ও অতিরিক্ত পরীক্ষার ওপর। আমার বিশ্লেষণ থেকে পরিষ্কার আপনার বাজেট ও জটিলতা বুঝে সঠিক প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়াই আসল কাজ।
অপারেশনের আগে অন্তত ৩টি হাসপাতালের মূল্য তালিকা জোগাড় করুন, প্রতিটি ছোট খরচের হিসাব করুন। আর হ্যাঁ, নিজের স্বাস্থ্যই বড় টাকার চেয়ে মান পরীক্ষা করুন। কেবলমাত্র কম খরচের দিকে না গিয়ে, স্থানীয় রোগীদের মতামত নিন। তবেই নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।