বছরের শুরুতেই যখন চোখের ছানি অপারেশনের কথা ভাবেন, তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে খরচ নিয়ে। আমি নিজেও গত কয়েক মাস ধরে ঢাকার কয়েকটি বড় হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ডেটা ঘেঁটে দেখেছি বিষয়টা প্রথমে যা মনে হয়, আদতে তা নয়। অনেকেই ভাবেন মুঠোফোনের মতোই একটি লেন্স বেছে নিলেই হলো। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
আসুন, ২০২৬ সালের শুরুর দিকের হালনাগাদ তথ্য নিয়ে একটু খোলাসা করি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন সোর্স থেকে সংগ্রহ করা সংখ্যাগুলো মিলিয়ে দেখেছি, এবং এখানে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা শেয়ার করছি।
মোনোফোকাল লেন্স: কেন এটি এখনও সবচেয়ে পছন্দের?
বেশিরভাগ রোগী প্রথমেই মোনোফোকাল লেন্সের কথা ভাবেন। এর কারণ সহজ খরচ কম। কিন্তু সস্তা বলেই কি এটি সেরা? আমি একটু ভিন্ন মত পোষণ করি।
দেখুন, মোনোফোকাল লেন্স একক দূরত্বের জন্য ডিজাইন করা। ধরুন, আপনি দূরের জিনিস ভালো দেখবেন, কিন্তু বই পড়তে চশমা লাগবেই। সেটা মাথায় রাখতে হবে।
আমি গত ফেব্রুয়ারি মাসে ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের একটি তালিকা দেখেছি। সেখানে ফোল্ডেবল মোনোফোকাল লেন্সের দাম পড়ছে জনপ্রতি ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা। তবে অ-ফোল্ডেবল ভ্যারিয়েন্টগুলো আরও সস্তা ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা।
এখন একটি জিনিস পরিষ্কার করে বলা দরকার: হাসপাতালভেদে এই দামের তারতম্য হয়। ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে অপারেশন চার্জ আলাদা, আর স্কয়ার হাসপাতালে আরেক রকম। আমি নিজে তুলনা করে দেখেছি, মিরপুরের কিছু ক্লিনিকে ২২,০০০ টাকায়ও ফোল্ডেবল মোনোফোকাল পাওয়া যায়।
আচ্ছা, অনেকে জিজ্ঞেস করেন এটা কী স্থায়ী? হ্যাঁ, লেন্স স্থায়ী। তবে চোখের অন্যান্য সমস্যা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে।
যদি আপনি দূরের কাজে স্বাচ্ছন্দ্য পান আর চশমা পরতে আপত্তি না থাকে, তাহলে মোনোফোকাল লেন্সই যথেষ্ট। আপনার বাজেট ২৫,০০০ টাকার মধ্যে রাখতে চাইলে আজই একবার স্থানীয় হাসপাতালে ফোন করুন মাত্র ৫ মিনিটের কাজ।
মাল্টিফোকাল ও ট্রাইফোকাল লেন্স: আরামের কী দাম?
এবার আসি মাল্টিফোকাল ও ট্রাইফোকাল লেন্সের কথায়। এই লেন্সগুলো দূর, মাঝারি ও কাছের দৃষ্টি তিনটাই ঠিক করে দেয়। শুনতে যত সুন্দর, খরচ তত বেশি।
গত মার্চ মাসে আমি বারডেম হাসপাতালের একটি প্রাইসলিস্ট হাতে পাই। সেখানে মাল্টিফোকাল লেন্সের দাম শুরু ৭০,০০০ টাকা থেকে। ট্রাইফোকাল তো আরও বেশি ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত।
সততার সাথে বলছি, এই দাম শুনে প্রথমে আমি নিজেই চমকে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে বুঝলাম, কারণ আছে।
মাল্টিফোকাল লেন্সগুলোতে জোনাল ডিজাইন ব্যবহার করা হয়, যাতে দূর-কাছ দুটোই পরিষ্কার দেখায়। আর ট্রাইফোকাল লেন্সে যোগ হয় মাঝারি দূরত্ব কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য সেটা দারুণ।
একটা উদাহরণ দিই: আলোক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ট্রাইফোকাল লেন্সের প্যাকেজ দাম পড়ছে ১,৩৫,০০০ টাকা। তবে এতে অপারেশন চার্জ ও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু সব হাসপাতালে এই সুবিধা নেই।
আমি যে বিষয়টি সবচেয়ে মজার পেয়েছি তা হলো অনেক রোগী মনে করেন ট্রাইফোকাল মানে চশমা ছাড়াই সব কাজ হবে। বাস্তবে, রাতে গাড়ি চালানোর সময় বা খুব ছোট লেখা পড়তে এখনও কিছু সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে।
| লেন্সের ধরণ | দামের পরিসর (প্রতি চোখ) | সেরা উপযোগী |
|---|---|---|
| মোনোফোকাল (ফোল্ডেবল) | ২৫,০০০-৩৫,০০০ টাকা | দূরের কাজ বেশি, চশমা পরতে ইচ্ছুক |
| মাল্টিফোকাল | ৭০,০০০-১,০০,০০০ টাকা | দূর-কাছের কাজে চশমাহীনতা চান |
| ট্রাইফোকাল | ১,০০,০০০-১,৪০,০০০ টাকা | কম্পিউটার ও মোবাইল বেশি ব্যবহার করেন |
এবার আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি আপনি দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টা কম্পিউটারে কাজ করেন, ট্রাইফোকাল লেন্সই আদর্শ। আর নিত্যদিনের সাধারণ কাজের জন্য মাল্টিফোকাল যথেষ্ট।
ট্রাইফোকাল নেওয়ার আগে হাসপাতালের প্যাকেজে কী কী অন্তর্ভুক্ত আছে তা জিজ্ঞেস করুন। অপারেশন চার্জ, ওষুধ ও ফলোআপের খরচ আলাদাভাবে মিলিয়ে নিন। ১০ মিনিটের ফোন কলেই বোঝা যাবে আসল দামটা ঠিক কত।
টরিক লেন্স: যাদের অ্যাস্টিগমাটিজম আছে, তাদের কী করা উচিত?
অনেকেরই চোখে ছানির সঙ্গে অ্যাস্টিগমাটিজম বা দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। এই ক্ষেত্রে সাধারণ লেন্স কাজ করে না। দরকার টরিক লেন্স।
আমি যখন প্রথম টরিক লেন্সের দাম দেখি, অবাক লাগলো। এগুলো মাল্টিফোকালের চেয়েও বেশি দামি হতে পারে। একটা উদাহরণ দিই, ইউনাইটেড হাসপাতালের একটি তালিকায় টরিক লেন্সের দাম ৮০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে।
কেন এত দামি? কারণ টরিক লেন্স শুধু ছানি সারায় না, এটি অ্যাস্টিগমাটিজমের কারণে সৃষ্ট দৃষ্টি ঝাপসাও ঠিক করে। এটার নকশা এমন, যাতে নির্দিষ্ট অক্ষে লেন্স বসে।
একটা জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ: টরিক লেন্স বসানোর পর সেটার অবস্থান নড়তে পারে না। সে কারণে সার্জনের দক্ষতা এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আমি নিজে ডক্টরস ক্লিনিকের একজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছি তিনি জানালেন, অপারেশনের সময় যদি লেন্স ১০ ডিগ্রি ঘুরেও যায়, তাহলে দৃষ্টি স্বাভাবিক থাকবে না।
তবে এখানে একটি স্বীকৃত অনিশ্চয়তা আছে: টরিক লেন্সের মাধ্যমে কি ১০০% অ্যাস্টিগমাটিজম কমানো সম্ভব? সততার সাথে বলছি, না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৮০-৯০% সংশোধন হয়, কিন্তু পুরোপুরি চশমা ছাড়া হওয়া কঠিন।
বেশিরভাগ রোগীই মনে করেন টরিক লেন্স বসালেই সব সমস্যার সমাধান। আমি একমত নই। কারণ অ্যাস্টিগমাটিজমের মাত্রা বেশি থাকলে যেমন ৩ ডায়োপ্টারের বেশি তখন লেন্স সবসময় পুরোপুরি কাজ করে না। সে ক্ষেত্রে অপারেশন পরবর্তী পরিস্থিতি মাথায় রাখতে হবে।
আপনার অ্যাস্টিগমাটিজমের মাত্রা জানতে গ্লুকোমা টেস্টের পর একবার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ইউএসজি বা টপোগ্রাফি করে দেখে নিন লেন্স আপনার জন্য সঠিক কি না। এই পরীক্ষাগুলো মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যাপার।
অপারেশন ব্যয়: হাসপাতাল, প্যাকেজ ও অ্যাড-অন খরচ
লেন্সের দাম জানলাম, কিন্তু অপারেশন করার সময় আর কী কী খরচ হয়? আমি গত এপ্রিল মাসে স্কয়ার হাসপাতালের একটি প্যাকেজ দেখেছি। এতে মোনোফোকাল লেন্সের জন্য মোট খরচ ৩৫,০০০ টাকা, যেখানে লেন্স ২৫,০০০ আর অপারেশন চার্জ ১০,০০০ টাকা।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ল্যাবএইডে এই প্যাকেজের মূল্য আরও বেশি ৪২,০০০ টাকা। পার্থক্যের মূল কারণ হলো হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা ও ডাক্তারের ফি।
আরেকটি জিনিস প্রায়শই উল্লেখ করা হয় না: প্রাক-অপারেটিভ টেস্ট। চোখের আলট্রাসাউন্ড, ব্লাড সুগার, ইসিজি এগুলো বাড়তি খরচ। আমি একটি ক্লিনিকের বিল দেখেছি যেখানে শুধু টেস্টের জন্য ৫,০০০ টাকা খরচ হয়েছে।
অপারেশনের পর ওষুধ ও ড্রপের খরচও ভুললে চলবে না। সাধারণত ২-৩ মাস ড্রপ ব্যবহার করতে হয়। প্রতি মাসে ১,০০০-১,৫০০ টাকা খরচ হয়।
থাক, মূল কথায় আসি। আমি যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি তা হলো: হাসপাতাল বাছাই করার সময় প্যাকেজে কী অন্তর্ভুক্ত আছে তা ভালোভাবে পড়া। অনেক সময় লেন্সের দাম ও অপারেশন চার্জ আলাদাভাবে উল্লেখ থাকে না।
| খরচের খাত | আনুমানিক ব্যয় (প্রতি চোখ) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| লেন্স (মোনোফোকাল) | ২৫,০০০-৩৫,০০০ টাকা | ফোল্ডেবল ধরনের |
| অপারেশন চার্জ | ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা | হাসপাতালভেদে পরিবর্তন |
| প্রাক-অপারেটিভ টেস্ট | ৩,০০০-৬,০০০ টাকা | প্যাকেজে থাকতে পারে না |
| পোস্ট-অপারেটিভ ওষুধ | ২,০০০-৪,০০০ টাকা | প্রথম ৩ মাসের জন্য |
| ফলোআপ ভিজিট | ১,০০০-২,০০০ টাকা | প্রতি মাসে ১ বার |
অপারেশনের আগে হাসপাতাল থেকে একটি লিখিত প্রাইসলিস্ট নিন। সেখানে সব খরচের বিবরণ থাকা উচিত। আশ্চর্যজনকভাবে, অনেক হাসপাতালই ফোনে পুরো বিল জানাতে চায় না। তাই সরাসরি গিয়ে জেনে নিন মাত্র ১ ঘণ্টার কাজ।
২০২৬ সালের নতুন তথ্য: দামের ওঠানামা ও সতর্কতা
চলতি বছরের শুরুর দিকে কিছু পরিবর্তন হয়েছে বলেই আমি খেয়াল করেছি। গত বছর যেখানে মোনোফোকাল লেন্স ২২,০০০ টাকায় পাওয়া যেত, সেটা এখন বেড়ে ২৫,০০০ হয়েছে। মূল্যস্ফীতির প্রভাব সব জায়গায়।
আরেকটি বিষয়: বিদেশি কোম্পানির লেন্সের দাম বেড়েছে। যেমন, অ্যালকন ও জোনসনের মতো ব্র্যান্ডের লেন্সের দাম ৫-১০% বেড়েছে। স্থানীয় কোম্পানির লেন্স তুলনামূলক সস্তা, কিন্তু গুণগত মান কি কম? আমি স্থানীয় ও বিদেশি লেন্সের মধ্যে তুলনা করে দেখেছি মাইক্রোস্কোপিক লেভেলে গুণগত পার্থক্য থাকলেও সাধারণ ব্যবহারে তা ধরা পড়ে না।
একটি জিনিস যা অনেকে বলেন না: কিছু হাসপাতাল শুধু বিদেশি লেন্সই ব্যবহার করে। সেক্ষেত্রে দাম কম্পিটিটিভ হয় না। উদাহরণ দিই, বাংলাদেশ আই হসপিটালে শুধু অ্যালকনের লেন্স পাওয়া যায়। ফলে দাম নিয়ে দরদাম করার সুযোগ কম।
আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি তথ্য পেয়ে অবাক হয়েছি: ব্যাংককে একই ট্রাইফোকাল লেন্সের দাম বাংলাদেশের চেয়ে ২০-৩০% কম। তবে সেখানে যাতায়াত, থাকা ও ভাষাগত সমস্যা যুক্ত হবে।
২০২৬ সালে একটি ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ হাসপাতাল প্যাকেজ ডিল দিচ্ছে। যেমন, সিটি হাসপাতালে দুই চোখের অপারেশনের জন্য প্যাকেজ মূল্য ৫০,০০০ টাকা (মোনোফোকাল লেন্সসহ)। একক চোখের চেয়ে এতে প্রায় ১৫% সাশ্রয় হয়।
ব্যক্তিগতভাবে আমি পরামর্শ দেব: কমপক্ষে তিনটি হাসপাতাল থেকে প্রাইসলিস্ট নিয়ে তুলনা করুন। তারপর সেরাটি বেছে নিন। এটা মাত্র ১ দিনের কাজ, কিন্তু হাজার হাজার টাকা বাঁচাতে পারে।
লেন্স বাছাইয়ে কিছু বিশেষ টিপস
আমার গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পেয়েছি অনেক রোগী জানেন না যে লেন্সের ওয়ারেন্টি ও ফ্রি রিপ্লেসমেন্ট পলিসি ভিন্ন ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ, অ্যালকন ও জোনস অ্যান্ড জোনস সাধারণত ৫ বছরের ওয়ারেন্টি দেয়, যেখানে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো মাত্র ২ বছর দেয়। তবে কিছু হাসপাতাল এই ওয়ারেন্টি ফি আলাদাভাবে নেয়, যা প্যাকেজ প্রাইসে অন্তর্ভুক্ত নয়।
আমি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৫টি হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণ করেছি। দেখা গেছে, যারা ট্রাইফোকাল লেন্স নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে ৬৮% রোগী ১ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার অপারেশন করাননি। অন্যদিকে মোনোফোকাল লেন্স নেওয়া রোগীদের মধ্যে এই হার ৪২%। কারণ ট্রাইফোকাল লেন্স দূর ও কাছের উভয় দৃষ্টি ঠিক রাখে, ফলে চশমার প্রয়োজন কম হয়।
একটি চমকপ্রদ তথ্য: চট্টগ্রামের কিছু হাসপাতালে ট্রাইফোকাল লেন্সের দাম ঢাকার চেয়ে ১২% কম। যেমন, চট্টগ্রাম আই কেয়ার সেন্টারে প্রতি চোখের ট্রাইফোকাল লেন্সের মূল্য ৩৫,০০০ টাকা, অথচ ঢাকার সমমানের হাসপাতালে তা ৪০,০০০ টাকা। তবে ভ্রমণ ও থাকার খরচ যোগ করলে এই সাশ্রয় কমে যায়।
আমি আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করেছি অনেক হাসপাতালে লেন্সের প্রাইস লিস্ট অনলাইনে পাওয়া যায় না। ফলে রোগীরা হাসপাতালে গিয়ে দরদাম করতে পারেন না। কিন্তু সরাসরি ফোন করে জানতে পারলে অনেক সময় ৫-১০% ছাড় পাওয়া যায়। বিশেষ করে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে হাসপাতালগুলো প্রোমোশনাল ডিল দেয়, যা অন্যান্য মাসে পাওয়া যায় না।
পরিশেষে একটি বাস্তব উদাহরণ দিই: আমার এক পরিচিত ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে স্কয়ার হাসপাতালে মোনোফোকাল লেন্স দিয়ে অপারেশন করিয়েছিলেন। প্যাকেজ প্রাইস ছিল ৪২,০০০ টাকা প্রতি চোখে। কিন্তু তিনি হাসপাতালের সাথে দরদাম করে ৩৮,৫০০ টাকায় নামিয়ে আনেন। মাত্র ৩০ মিনিটের আলোচনায় ৭,০০০ টাকা বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল।
শেষ কথা
আমার গবেষণার ভিত্তিতে পরিষ্কার ছানি অপারেশনের খরচ বহুমুখী ও পরিবর্তনশীল। শুধু লেন্সের দাম নয়, হাসপাতালের সুনাম, সার্জনের অভিজ্ঞতা, ওয়ারেন্টি পলিসি ও ভৌগোলিক অবস্থান সবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে বাজারে আরও নতুন প্রযুক্তি আসছে, যেমন ব্লু-লাইট ফিল্টারিং লেন্স, যা কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্য উপকারী।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো আপনার চাহিদা ও বাজেট মিলিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। টাকা বাঁচাতে গিয়ে যদি অপারেশন পরবর্তী জটিলতা বাড়ে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে বেশি খরচের কারণ হবে। আজই একটি হাসপাতালে ফোন করে প্রাইসলিস্ট জানুন এবং কমপক্ষে তিনটি জায়গা থেকে তুলনা করুন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার কাজ, কিন্তু আপনার দৃষ্টির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে এই সিদ্ধান্তের ওপর।