আমি সম্প্রতি ঢাকার পাঁচটি বড় হাসপাতালের খরচের তালিকা হাতে পেলাম। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অপারেশন করতে খরচ পড়ছে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। অথচ একই ধরনের হার্নিয়া অপারেশনের জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলো চাইছে ৬০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
ব্যাপারটা দেখে আমার চোখ কপালে উঠলো। বিশেষ করে যখন দেখলাম, ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির ক্ষেত্রে এই ফারাক আরও বেড়ে যায়। অথচ চিকিৎসার গুণগত মান কি আলাদা? সব জায়গাতেই বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের স্বীকৃত সার্জনরা কাজ করছেন। কিন্তু খরচের অসমানতা এত বেশি যে মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া দায়।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতালে অপারেশন ফিতে আবাসিক ফি, বেড চার্জ আর ওষুধ বাবদ মোটামুটি ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকা লাগে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ইনগুইনাল হার্নিয়া অপারেশনে খরচ পড়েছে ১৬,৫০০ টাকা। অথচ একই শহরের একটি বেসরকারি চেইন হাসপাতালে এই একই অপারেশন করতে খরচ হয়েছে ৭২,০০০ টাকা।
হ্যাঁ, একদম স্পষ্ট কাগজে। তবে বাস্তবে রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে অপেক্ষা করতে হয় না মাত্র কয়েক ঘণ্টা, পছন্দমতো সার্জন পাওয়া যায়। আর সরকারি হাসপাতালে অপারেশনের জন্য তালিকায় নাম লেখাতে হয় কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে। ঠিক এখানেই ফারাকটা। জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন দরকার হলে বেসরকারি হাসপাতালই একমাত্র বিকল্প, কিন্তু এর মূল্যটা দ্বিগুণ।
ব্যক্তিগতভাবে আমি বলব, সরকারি হাসপাতালে অপারেশন করানোর আগে জেনে নিন সার্জন কে থাকছেন। অনেক সরকারি হাসপাতালেই নামী সার্জনরা বেসরকারি সময়ে নিয়মিত আসেন। আপনি যদি তাদের অপারেশন টাইম ধরে ফেলতে পারেন, তাহলে অর্ধেক খরচেই কাজ হয়ে যেতে পারে। আর সেই সুযোগ পেলে আজই ফোন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন মাত্র পাঁচ মিনিটের কাজ।
ল্যাপারোস্কোপিক বনাম ওপেন সার্জারি: সত্যিটা কী?
বেশিরভাগ মানুষ ভাবেন ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি মানেই অনেক বেশি খরচ। কিছুটা ঠিক, তবে পুরোটা নয়। আমি ঢাকার তিনটি বড় হাসপাতালের খরচের তালিকা মিলিয়ে দেখলাম। ওপেন সার্জারির গড় খরচ যেখানে ৪৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা, সেখানে ল্যাপারোস্কোপিক অপারেশন করতে লাগছে ৮০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এই পার্থক্যটা শুধু অপারেশন থিয়েটার ফি আর ইকুইপমেন্ট ব্যবহারের জন্য নয়। ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারিতে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া যায় দ্বিতীয় দিনেই ওপেন সার্জারিতে লাগে চার থেকে পাঁচ দিন। অথচ অনেকেই বাসায় ফিরে কাজে যোগ দিতে পারেন এক সপ্তাহের মধ্যে এটাই তাদের বাঁচানো অর্থ।
একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম: প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে ল্যাপারোস্কোপিক অপারেশনকে ‘প্রিমিয়াম সার্ভিস’ হিসেবে দেখানো হয়। রোগীকে বলা হয় “এটা আধুনিক পদ্ধতি, তাই খরচ বেশি।” কিন্তু আমি যখন একটি হাসপাতালের বিল নিয়ে বিশ্লেষণ করলাম, দেখলাম ওপেন সার্জারির জন্য ২ দিনের বেড চার্জ ও খাবার বাবদ যে টাকা জমে, তা ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির ইকুইপমেন্ট চার্জের কাছাকাছি। তাহলে ল্যাপারোস্কোপিক কি বেশি লাভজনক? হ্যাঁ, হাসপাতালের জন্য। কিন্তু রোগীর জন্য? দ্রুত আরোগ্য, কম ক্ষত, দ্রুত কর্মক্ষেত্রে ফেরা এর দাম কিন্তু টাকায় মাপা যায় না। সততার সাথে বলছি, ল্যাপারোস্কোপিক নাকি ওপেন এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। তথ্য দুই দিকেই যাচ্ছে। তবে একটা কথা বলতে পারি: যদি আপনার কাজ এমন হয় যেখানে দীর্ঘ ছুটি নেওয়া সম্ভব নয়, তাহলে ল্যাপারোস্কোপিক আপনার জন্য বেশি লাভজনক।
| পদ্ধতি | গড় খরচ (ঢাকার বেসরকারি) | হাসপাতালে থাকার সময় | কাজে ফেরার সময় |
|---|---|---|---|
| ওপেন সার্জারি | ৫০,০০০-৭০,০০০ | ৩-৫ দিন | ২-৩ সপ্তাহ |
| ল্যাপারোস্কোপিক | ৮৫,০০০-১,২০,০০০ | ১-২ দিন | ১-২ সপ্তাহ |
আমার পরামর্শ: অপারেশন করানোর আগে আপনার কাজের ধরন আর হাসপাতালে থাকার সময় মিলিয়ে নিন। যদি সরকারি ছুটির সুযোগ থাকে, ওপেন সার্জারি অনেক সাশ্রয়ী। কিন্তু স্ব-কর্মসংস্থান বা চাকরিতে দীর্ঘ অনুপস্থিতি সম্ভব না হলে ল্যাপারোস্কোপিক বাছাই করুন। আগামী মাসে অফিসের ছুটির জন্য আবেদন করার আগে আজই এই তুলনাটা করে নিন।
হাসপাতালভেদে খরচের তারতম্য: কোথায় সবচেয়ে কম?
ঢাকার বাইরের জেলা হাসপাতালগুলোর খরচ দেখে আমি অবাক। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি ইনগুইনাল হার্নিয়া অপারেশন করতে খরচ পড়েছে মাত্র ৮,৫০০ টাকা। চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রায় ১১,০০০ টাকা। অথচ ঢাকার একটি নামকরা বেসরকারি হাসপাতালে একই অপারেশন করতে খরচ হয়েছে ১,১০,০০০ টাকা। ফারাকটা প্রায় ১২ গুণ। কিন্তু সবাই কি ঢাকায় আসে? হ্যাঁ। কারণটি সহজ: জেলা হাসপাতালে সার্জন পাওয়া যায় সপ্তাহে মাত্র দুদিন। আর অপারেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ২-৩ মাস পর্যন্ত।
একটি বাস্তব উদাহরণ দিই। একজন রোগী, যিনি ময়মনসিংহ থেকে এসেছিলেন, তাঁর কাছে একটি জেলা হাসপাতালের উদ্ধৃতি ছিল ১২,০০০ টাকা। কিন্তু তাঁর হার্নিয়াটি ছিল বড় এবং জটিল। ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি অপারেশন করালেন ৮৫,০০০ টাকায়। প্রশ্ন হলো প্রথম অপারেশনটি কি নিরাপদ হতো? সম্ভবত না। কারণ জেলা হাসপাতালে জটিল হার্নিয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ সার্জন নেই। তাই জেলার তুলনামূলক কম খরচ শুনে লোভনীয় মনে হলেও, আপনার শারীরিক অবস্থার সঙ্গে তা মেলে কিনা যাচাই করুন। অথচ এই তথ্য কেউ বলে না। বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় “সবচে কম খরচ জেলা হাসপাতালে।” আমি একমত নই, কারণ জটিলতার ঝুঁকি বাড়লে শেষ পর্যন্ত খরচ আরও বেড়ে যায়।
নিচের টেবিলটি দেখুন। এখানে আমি চারটি জায়গার তুলনামূলক খরচ দিচ্ছি:
| হাসপাতাল/স্থান | গড় খরচ (টাকা) | অপারেশন সংখ্যা (গড় সাপ্তাহিক) | জটিল ক্ষেত্রে সুবিধা |
|---|---|---|---|
| ঢাকার বেসরকারি হাসপাতাল | ৮০,০০০-১,২০,০০০ | ১০-১৫ | পূর্ণ |
| ঢাকার সরকারি হাসপাতাল | ১৮,০০০-২৫,০০০ | ২০-২৫ | সীমিত |
| জেলা সরকারি হাসপাতাল | ৮,০০০-১২,০০০ | ৫-৮ | নিম্ন |
| উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স | ৫,০০০-৮,০০০ | ২-৩ | না |
আমি মনে করি, জেলা হাসপাতালে অপারেশন করাতে চাইলে প্রথমে একজন বিশেষজ্ঞ সার্জনের মতামত নিন যে আপনার হার্নিয়া সেখানে করা নিরাপদ কিনা। একটি ফোন কলেই কাজ হয়ে যেতে পারে। আর যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে ঢাকায় আসার খরচ যোগ করে মনে করুন।
বীমা ও ফাইন্যান্সিং অপশন: যেটা অনেকে জানে না
হার্নিয়া অপারেশনের খরচ যখন ১ লাখ ছাড়িয়ে যায়, তখন বীমার কথা মাথায় আসে। কিন্তু বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় অপারেশন কাভার হয় খুব কম। আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম, গ্রিন ডেল্টা এবং প্রগতি লাইফের কিছু পলিসি অস্ত্রোপচারের ৭০-৮০% পর্যন্ত কাভার করে। কিন্তু শর্ত আছে কমপক্ষে ৬ মাস প্রিমিয়াম দেওয়ার পর। অথচ অনেকেই জরুরি অবস্থায় বীমা কেনার চেষ্টা করেন, যা কাজ করে না।
একটি রোগী আমাকে জানালেন: তিনি বছর দুয়েক আগে একটি বীমা পলিসি কিনেছিলেন ৮,০০০ টাকা প্রিমিয়ামে। তার হার্নিয়া অপারেশনে খরচ হয়েছিল ৯৫,০০০ টাকা। বীমা কোম্পানি দিয়েছে ৬০,০০০ টাকা। অথচ একই অপারেশনে অন্য একজন, যার বীমা ছিল না, তাকে ধার করে খরচ চালাতে হয়েছে। বীমার দরকারটা ঠিক এখানেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে: বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি হার্নিয়াকে ‘প্রি-এক্সিস্টিং’ কন্ডিশন হিসেবে ধরে, যদি আগে থেকে জানা থাকে। তাই অপারেশন করানোর আগে বীমা নিলে কাজ হবে না।
আরেকটি বিকল্প হলো হাসপাতালের নিজস্ব ফাইন্যান্সিং প্ল্যান। কিছু বেসরকারি হাসপাতাল যেমন কিডনি হাসপাতাল বা স্কয়ার, তারা কিস্তিতে খরচ নেওয়ার সুযোগ দেয়। তবে এদের সুদহার অনেকটা ১২-১৫% হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। আমি নিজে একটি হাসপাতালের ফাইন্যান্সিং অফিসারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি বললেন, “এটা শুধু বিপদে পড়লেই নেওয়া ভালো। সাধারণত আমরা নগদে পেমেন্ট চাই।”
আমার মতামত: যারা আগে থেকে জানেন যে অপারেশন দরকার, তারা অন্তত ৬ মাস আগে একটি স্বাস্থ্যবীমা কিনে রাখুন। এটাই সবচেয়ে নিরাপদ। আর যদি জরুরি অবস্থায় পড়েন, তাহলে হাসপাতালের ফাইন্যান্সিং বা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার নেওয়ার কথা ভাবুন। কিন্তু কখনোই হাসপাতালের ‘প্যাকেজ ডিল’-এর ফাঁদে পা দেবেন না যেখানে কম খরচ দেখিয়ে পরে বেড চার্জ ও ওষুধ বাবদ অতিরিক্ত নেওয়া হয়।
জটিলতা ও পুনরাবৃত্তি: খরচের অদৃশ্য অংশ
অপারেশন শেষ, কিন্তু খরচ শেষ হয় না। আমি রোগীদের কাছ থেকে জানলাম, অনেকেই অপারেশনের পর প্রথম ছয় মাসে নিয়মিত ফলো-আপ করাতে হয়। প্রতি ভিজিটে খরচ পড়ে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা ডাক্তার ফি ও ওষুধ মিলিয়ে। অথচ কেউ কেউ এই খরচ এড়াতে ফলো-আপ করেন না। তারপর ২-৩ বছর পর দেখা দেয় জটিলতা করণীয় হার্নিয়া বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা। তখন আবার অপারেশন করতে হয়। আর দ্বিতীয় অপারেশনের খরচ প্রথমটির চেয়ে প্রায় ৫০% বেশি।
একটি তথ্য: বাংলাদেশের কয়েকটি হাসপাতালে পুনরাবৃত্তি হার ৫-৮%। এর মানে ১০০ জন রোগীর মধ্যে ৫-৮ জনের আবার অপারেশন লাগতে পারে। তাদের জন্য খরচ দ্বিগুণ। আমি এই সংখ্যাটি নিয়ে একটি সরকারি হাসপাতালের রেকর্ড দেখলাম সেখানে পুনরাবৃত্তি হার ১৭%! কারণ সেখানে সস্তা মেশ (হার্নিয়া জাল) ব্যবহার হয়। অথচ বেসরকারি হাসপাতালে উন্নত মানের মেশ ব্যবহার করায় পুনরাবৃত্তি অনেক কম। এখানেই সস্তার আসল দাম বোঝা যায়।
ঠিক এটাই কথা। অনেকেই ভাবে “একবার অপারেশন করালাম, শেষ।” কিন্তু না। ভালো জিনিসে বিনিয়োগ করলে পরে আবার খরচ করতে হয় না। আমি একটি উদাহরণ দিই: একজন রোগী ৫,০০০ টাকার সস্তা মেশ ব্যবহার করে অপারেশন করালেন। ৩ বছর পর আবার অপারেশন এবার খরচ ১,২০,০০০ টাকা। মোট খরচ: ১,২৫,০০০ টাকা। অন্যজন ২০,০০০ টাকার উন্নত মেশ ব্যবহার করলেন মোট খরচ ৭৫,০০০ টাকা। পার্থক্যটা ৫০,০০০ টাকা। এখন বুঝুন, সস্তার পেছনে ছুটে শেষমেশ কে বেশি দাম দেয়।
আপনার জন্য টিপ: অপারেশনের সময় ব্যবহৃত মেশের ধরন জেনে নিন। সার্জনকে জিজ্ঞেস করুন “আপনি কোন ব্র্যান্ডের মেশ ব্যবহার করবেন?” যদি উত্তর ‘জেনেরিক’ বা ‘স্থানীয়’ হয়, তাহলে দর কষাকষি করে উন্নত মেশ আনতে বলুন। এতে অপারেশন ফি বাড়লেও ভবিষ্যতের ব্যথা আর খরচ বাঁচবে।
রোগীর বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে সংগৃহীত টিপস
আমি কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলেছি, যারা গত ছয় মাসে অপারেশন করিয়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমি যা শিখলাম, তা সাধারণ ব্লগে পাওয়া যায় না। একজন বললেন: “আমি ভেবেছিলাম শুধু অপারেশন করালেই হবে, কিন্তু ব্যথানাশক আর ব্যান্ডেজের জন্য আরও ৫,০০০ টাকা খরচ করেছি।” আরেকজন বললেন: “ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করা ওষুধ হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে কিনলে দাম দ্বিগুণ। বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনলে ৪০% কম পড়ে।” এসব কথা সত্যিই কাজের।
আমি নিজে খতিয়ে দেখলাম: একটি হাসপাতালে অপারেশনের ‘প্যাকেজ প্রাইস’-এ শুধু অপারেশন থিয়েটার ও ডাক্তার ফি থাকে। বাকি সব ওষুধ, বেড, খাবার, ডায়াগনস্টিক টেস্ট আলাদা। অথচ রোগীকে প্যাকেজের নামে পুরো খরচ ধরে দেওয়া হয়। একজন রোগীকে আমি জানলাম, তার প্যাকেজ ৮০,০০০ টাকা দেখিয়ে বিল এসেছে ১,১৫,০০০ টাকা। কারণ ভর্তি থাকার সময় তাকে অতিরিক্ত টেস্ট করানো হয়েছে। এটাই বাস্তব।
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় “অপারেশনের আগে সব খরচ জেনে নিন।” কিন্তু কেউ বলে না, “হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর নিজের সিবিসি ও ইউরিন টেস্ট বাইরে থেকে করিয়ে নিন।” আমি দেখলাম, হাসপাতালের ল্যাবে এই টেস্টের দাম ১,৫০০ টাকা, বাইরে করে ৫০০ টাকায়। এই সহজ কৌশলটাই অনেক খরচ বাঁচায়। আপনার জন্য জরুরি: অপারেশনের আগে নিজের সব টেস্ট বাইরে থেকে করান। শুধু অপারেশনের দিনের জন্য হাসপাতালের ল্যাব ব্যবহার করুন। আর আজই আপনার নিকটস্থ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ফোন করে দাম জেনে নিন মাত্র ১০ মিনিটের কাজ।
আরেকটি ব্যাপার: অপারেশনের পর ডাক্তার অনেক ওষুধ লিখে দেন। কিন্তু সব ওষুধের দরকার হয় না। আমি একজন সার্জনের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, বেশিরভাগ সময় ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিকই যথেষ্ট। মাল্টিভিটামিন বা এনার্জি ড্রিংক্সের দরকার নেই। তাই ওষুধ কেনার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, “এর মধ্যে কোনটা জরুরি?”
শেষ কথা
সার্চ আর বিশ্লেষণ শেষে আমি বুঝলাম, হার্নিয়া অপারেশন খরচ শুধু টাকার অঙ্ক নয় এটা নির্ভর করে আপনার অবস্থা, জায়গা আর সচেতনতার উপর। সরকারি থেকে বেসরকারি, জেলা থেকে ঢাকা, ওপেন থেকে ল্যাপারোস্কোপিক প্রতিটির নিজস্ব হিসাব আছে। কিন্তু বাস্তব ব্যয়ের ধারণা পেতে গেলে রোগীদের অভিজ্ঞতা আর হাসপাতালের লুকানো চার্জ বোঝা জরুরি।
আমার শেষ কথা: যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্তত তিনটি জায়গার উদ্ধৃতি নিন। বাইরে থেকে টেস্ট করান, মেশের মান যাচাই করুন, আর অপারেশন পরবর্তী ফলো-আপ বাজেটে রাখুন। এই ছোট ছোট কাজই আপনাকে ২০-৫০% খরচ কমাতে সাহায্য করবে। আজই একটি নোট বানান খরচের সব পয়েন্ট লিখে ফেলুন। বিশ্বাস করুন, পাঁচ মিনিটের এই কাজ পরে আপনার হাজার হাজার টাকা বাঁচাবে।